ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
রংপুরের চার হ'ত্যাকাণ্ডের তদন্ত করবে ডিবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তভার গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মামলাটি অধিকতর স্বচ্ছ ও বিস্তারিতভাবে তদন্তের জন্য কোতয়ালি থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটির তদন্ত আরও গভীরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরে দুই কর্মকর্তা মাছুয়াপাড়া এলাকায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
ডিবির উপকমিশনার জানান, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত মামলার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে আসামিরা পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পাশাপাশি এমন কিছু তথ্যও উঠে এসেছে, যা তারা আগে পুলিশকে জানায়নি।
এর আগে রোববার ভোরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুগ্ধ নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে এবং সিদ্ধার্থ বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে।
শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগামী স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন এবং প্রিয়ম পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। পুলিশের ভাষ্য, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে।
গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। এর আগে নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকলেও মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। দোতলা বাড়িটির নিচতলার কাজ শেষ না হলেও দুই-তিন বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছিলেন।
অবসরের পর গণপতি চক্রবর্তী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন। এখন মামলাটি ডিবির হাতে যাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনা ও নতুন উঠে আসা তথ্যগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- বিইউপিতে ২৯ পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় পিংক বাস
- নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষকের বেতন বন্ধ
- দিনে তিনবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখার নির্দেশ
- শিক্ষকদের পদোন্নতি পারফরম্যান্স অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ
- জানুয়ারিতে ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন
- নারীদের চোখে পুরুষের যে ৫ শখ বেশি আকর্ষণীয়
- শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদন
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা নিয়ে যা জানা গেল
- মেয়েরা বাস কেন চালাতে পারবে না: বর্ষা