ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
নারীদের ‘গোলাপি বাস’: নিরাপদ যাত্রার উদ্যোগ, নাকি সেবার ঘাটতি?
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের নিত্যদিনের ভোগান্তি কমাতে চালু হয়েছে বিশেষায়িত ‘গোলাপি বাস’ সার্ভিস। তবে বাসের সংখ্যা কম, নির্দিষ্ট স্টপেজ ও সময়সূচির অভাব এবং দিনে মাত্র দুইটি ট্রিপের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় নারীদের জন্য এই বাস সার্ভিস চালু করা হয়। বর্তমানে ১০টি বাস চলাচল করছে এবং প্রতিটি বাস দিনে দুটি করে ট্রিপ দিচ্ছে। বিআরটিসির দাবি, দুপুরে যাত্রী কম থাকায় ওই সময়ে বাস চালানো হচ্ছে না।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে নারীরা সাধারণ গণপরিবহনে ভিড় ও নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন, অন্যদিকে ‘গোলাপি বাস’ অনেক সময় তুলনামূলক ফাঁকা অবস্থায় চলাচল করছে। আবার নির্দিষ্ট স্টপেজ ও সময়সূচি না থাকায় অনেক নারী বাসটি দেখেও উঠতে পারছেন না।
সোমবার বিকাল ৫টার দিকে মতিঝিলের রাজউক অ্যাভিনিউ এলাকায় সচিবালয় থেকে তালতলাগামী একটি গোলাপি বাসে নিচতলায় ১৪ জন এবং ওপরতলায় তিনজন যাত্রী দেখা যায়। বাসটিতে নিচে ৩২টি ও ওপরের তলায় ৪৫টি আসন রয়েছে। তবে মতিঝিল এলাকায় আসার পর যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়।
বাসটির চালক এস কে ফাহিমা সানজা কথা বলতে রাজি হননি। বিআরটিসির পক্ষ থেকে কথা বলার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে চালকের সহকারী হনুফার জানান, ২০০৯ সাল থেকেই তিনি নারীদের জন্য বরাদ্দ বাসে দায়িত্ব পালন করছেন। বাসে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী উঠলে তাকে বসার সুযোগ করে দিতেও যাত্রীদের অনুরোধ করেন তিনি।
যাত্রীদের কেউ কেউ গোলাপি বাসের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এক যাত্রী জানান, আগে নারী বাস থাকলেও আলাদা রঙ না থাকায় সহজে শনাক্ত করা যেত না। এখন গোলাপি রঙের কারণে বাসটি আলাদা করে চেনা যায়। সারা দেশে এ ধরনের বাস চালুর পক্ষেও মত দেন তিনি।
তবে বাস আলাদা হলেও নারী যাত্রীদের হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গোলাপি বাসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য একটি বাসের চালকের কাছ থেকে নারীচালককে উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করার ঘটনাও দেখা গেছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদের মতে, পর্যাপ্ত বাস না থাকলে এ ধরনের উদ্যোগ সফল হওয়া কঠিন। তাঁর বক্তব্য, একটি রুটে যদি বাসের ট্রিপ কম থাকে এবং স্টপেজ ও সময় নির্দিষ্ট না থাকে, তাহলে নারীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে সামনে পাওয়া অন্য বাসেই উঠবেন। এতে পরবর্তী সময়ে যাত্রী না পাওয়ার অজুহাতে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
অন্যদিকে বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা জানিয়েছেন, বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় রাস্তায় এগুলো কম দেখা যায়। যাত্রীরা সার্ভিস সম্পর্কে জানতে পারলে ধীরে ধীরে যাত্রী বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। যাত্রীরা অভ্যস্ত হলে ট্রিপের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। দুপুরে যাত্রী কম থাকায় ওই সময়ে বাস চালালে খালি চলাচলের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
সব মিলিয়ে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে গোলাপি বাস চালু হলেও পর্যাপ্ত বাস, নিয়মিত ট্রিপ এবং নির্দিষ্ট স্টপেজের ব্যবস্থা না হলে এই সেবা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন