ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
৮ হাজার কোটি টাকার নিত্যপণ্য কিনবে টিসিবি
ডুয়া ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা এবং খেজুরও সংগ্রহ করবে সরকারি এই বিপণন সংস্থা। পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় উৎস থেকে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহের দিক থেকে সুযোগ বেশি সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।
যেসব পণ্য কিনবে টিসিবি
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনার আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে মোট ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল সংগ্রহ করবে টিসিবি। পাশাপাশি ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামের মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যালোচনা করছে সংস্থাটি। টিসিবির চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক।
বাড়ছে গুদাম সক্ষমতা
মজুত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে গুদাম সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি। বর্তমানে সংস্থাটির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। সব মিলিয়ে এসব গুদামে প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন পণ্য সংরক্ষণ করা যায়।
এর মধ্যে নিজস্ব গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন। ভবিষ্যতে আরও প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন নিজস্ব মজুত সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্য ক্রয় ও বাজারে টিসিবির হস্তক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হলে লজিস্টিক সক্ষমতা শক্তিশালী করা জরুরি।
ভর্তুকি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ করে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে এ নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।
ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও টিসিবি পরিবারের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে। এতে এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তা হয় বলে জানান তিনি।
বাড়ছে পণ্যের তালিকা
প্রচলিত ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদও তালিকায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফয়সল আজাদ জানান, নতুন এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে দেওয়া হবে, তবে এ ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি থাকবে না। কোনো নতুন পণ্য যুক্ত করার আগে ভোক্তাদের প্রয়োজন জানতে জরিপ করা হয় বলেও জানান তিনি।
স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থায় পরিবর্তন
টিসিবির আওতায় বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করছে সংস্থাটি।
চেয়ারম্যানের মতে, স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। মৃত্যু, স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হওয়া, নাম বাদ পড়া কিংবা তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
ডিজিটাল হচ্ছে সরবরাহ ব্যবস্থা
টিসিবির পণ্য বিতরণব্যবস্থাকে আরও স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভোক্তারা লেনদেনের রসিদও পাবেন।
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালভাবে স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
ফয়সল আজাদ জানান, টিসিবি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি পৃথক কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে পারবে।
ভোক্তার চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা
টিসিবিকে বাজারের পরিবর্তিত চাহিদায় দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ফয়সল আজাদ বলেন, মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী দামে পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি ভোক্তার চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের পরিধি বাড়ানোই টিসিবির লক্ষ্য। নতুন যুক্ত হওয়া পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয় এবং পণ্যের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি জানান।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)