ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী দিল ক্লেমেন্টের মডেল

২০২৬ জুন ১২ ১৯:৫৩:২৯

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী দিল ক্লেমেন্টের মডেল

পার্থ হক: ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে পল দ্য অক্টোপাসের ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। জার্মানির প্রতিটি ম্যাচের ফল সঠিকভাবে অনুমান করে সে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তবে পরে জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল তৈরি করে সেই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দেন। ২০১৪ সাল থেকে তার মডেল বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল নির্ধারণে শতভাগ সফল হয়েছে।

ক্লেমেন্টের মডেল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত চলতি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস শিরোপা জিতলে এটি হবে তার পূর্বাভাসের টানা চতুর্থ সাফল্য। শুধু সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নই নয়, ৪৮ দলের পুরো টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য গতিপথও তুলে ধরা হয়েছে এই মডেলে।

এতে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলকে হারিয়ে জাপানের চমক দেখানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। একই পর্যায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে স্কটল্যান্ডের বিদায়ের পূর্বাভাসও রয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও ২০০৬ সালের মতো আবারও পর্তুগালের কাছে ছিটকে পড়বে বলে ধারণা করা হয়েছে।

নিজেকে একজন ‘নিরাশাবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ক্লেমেন্ট গত এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই মডেলের উদ্দেশ্য কখনোই জুয়া খেলে অর্থ উপার্জন করা বা হতাশা দূর করা ছিল না। বরং ফলাফল পূর্বাভাস দেওয়ার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরাই ছিল মূল লক্ষ্য।

ক্লেমেন্ট বলেন, “এটি শুরু হয়েছিল এমন একটি অনুশীলন হিসেবে, যার মাধ্যমে দেখানো যায় অর্থনীতিবিদরা কতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এমন বিষয় নিয়ে পূর্বাভাস দেন, যেগুলো সম্পর্কে তাদের প্রকৃতপক্ষে খুব কম ধারণা থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে, আপনি যদি যথেষ্ট ভাগ্যবান হন, তাহলে মানুষ আপনাকে গুরু ভাবতে শুরু করে।”

২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের পূর্বাভাস সঠিক হওয়ার পর ক্লেমেন্ট ভেবেছিলেন, ২০১৮ সালে একই পদ্ধতি অনুসরণ করলে হয়তো এটি নিছক কাকতালীয় বলে প্রমাণিত হবে। কিন্তু সে বছর ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পূর্বাভাসও মিলে যায়।

তার ভাষায়, “পরপর তিনবার সঠিক হওয়ার কারণে এখন অনেকেই মনে করেন এই মডেলকে হারানো সম্ভব নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই সবাই আশা করছে এবারও আমি ঠিক হব।”

তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে সাফল্য কিছু নির্দিষ্ট উপাদানের ওপর নির্ভর করে। যেমন কোনো দেশের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জলবায়ু ও ফিফা র‍্যাঙ্কিং। তবে এগুলো পুরো গল্পের কেবল একটি অংশ।

ক্লেমেন্ট সতর্ক করে বলেন, “বাকি ৫০ শতাংশই হলো ভাগ্য।”

তার মতে, সমমানের দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে দিনের ফর্ম, রেফারির সিদ্ধান্ত কিংবা বল পোস্টে লেগে ফিরে আসা বা গোলে ঢুকে যাওয়ার মতো ঘটনাও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। আর এসব বিষয় আগে থেকে নির্ভুলভাবে অনুমান করা সম্ভব নয়।

বিশ্বকাপ ঘনিয়ে এলে এই মডেল নিয়ে কাজ করা তার জন্য এক ধরনের মানসিক প্রশান্তির উৎস হয়ে ওঠে। চারপাশে যুদ্ধ, সংকট ও নেতিবাচক খবরে ভরা সময়ে এটি তাকে কিছুটা ভিন্নভাবে ভাবতে সাহায্য করে।

তিনি বলেন, “বিশেষ করে ২০২৬ সালে যখন চারদিকে এত সংকট ও সংঘাত চলছে, তখন এই কাজটি আমাকে ভালো অনুভব করায়। আমি আশা করি, এটি পাঠকদেরও কিছুটা স্বস্তি দেবে এবং নেতিবাচকতা থেকে সাময়িকভাবে মনোযোগ সরাতে সাহায্য করবে।”

তবে প্রতিবার পূর্বাভাস সঠিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর প্রত্যাশার চাপও বাড়ছে। বিনিয়োগ ব্যাংক প্যানমিউর লিবারামের কৌশলবিদ হিসেবে কর্মরত ক্লেমেন্টকে এখন সহকর্মীরাও বিভিন্ন ফুটবল-সংক্রান্ত প্রশ্ন করেন। এমনকি টটেনহ্যামের ডাচ মিডফিল্ডার জাভি সিমন্সের ইনজুরি তার মডেলে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও জানতে চান অনেকে।

পূর্বাভাসের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বারবার সতর্ক করলেও বিশ্বকাপ শুরুর অপেক্ষায় আছেন ক্লেমেন্ট। তিনি জানান, তার পূর্বাভাস প্রকাশের পর কয়েকজন সহকর্মী নেদারল্যান্ডসের পক্ষে বাজিও ধরেছেন। তাই মজা করে তিনি বলেন, “যদি নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপ থেকে দ্রুত বিদায় নেয়, তাহলে মনে হচ্ছে পরের দিন আমাকে অফিসে না গিয়ে বাসা থেকেই কাজ করতে হবে।”

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত