ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

ঋণের চাপে উৎপাদন বন্ধ, পৌনে তিন বছরে লোকসান ২৯০ কোটি

২০২৬ মে ০৫ ২১:৪৭:০৪

ঋণের চাপে উৎপাদন বন্ধ, পৌনে তিন বছরে লোকসান ২৯০ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দীর্ঘদিনের পুরনো প্রতিষ্ঠান মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেড বর্তমানে চরম ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ঋণখেলাপি হওয়ায় নতুন করে ঋণপত্র বা এলসি খুলতে পারছে না কোম্পানিটি। এর ফলে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মাত্র ৩২ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটি গত দুই বছর নয় মাসেই লোকসান গুনেছে ২৯০ কোটি টাকার বেশি। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

কোম্পানির সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক হতাশাজনক চিত্র। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রির পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে কমে গেছে। যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তারা ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার পণ্য বাজারে বিক্রি করেছিল, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। ঋণের দায়ে এলসি সুবিধা বন্ধ হওয়ায় নিজস্ব কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে কারখানাটি টিকে থাকতে অন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য ভাড়ায় উৎপাদন (কনভার্সন) করে দিচ্ছে, যা থেকে অর্জিত আয় নিয়মিত আয়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

আর্থিক ক্ষতির খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মেঘনা সিমেন্টের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৬ টাকা ৫৮ পয়সা, যার মোট পরিমাণ ১১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। লোকসানের এই ধারা আরও তীব্র হয়েছে চলতি অর্থবছরেও। জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মাত্র নয় মাসেই প্রতিষ্ঠানটি ১৫২ কোটি ৪ লাখ টাকা লোকসান করেছে। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও তাদের ২২ কোটি ৬১ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছিল। টানা লোকসানের প্রভাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য এখন ঋণাত্মক ৫১ টাকা ৩৩ পয়সায় ঠেকেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অবস্থায় কোম্পানিটির অবসায়ন বা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে কিছুই আসবে না।

ব্যবসায় এই ধসের নেপথ্যে মেঘনা সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে, মূলত ঋণখেলাপির কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে না পারা এবং স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে না পারায় তারা এখন কেবল কনভার্সন আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ১৯৯৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটির সিংহভাগ শেয়ার অর্থাৎ ৫৮ দশমিক ১০ শতাংশই রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন শেয়ারবাজারের এই বিনিয়োগকারীরা।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?

দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দামের পতন ঘটেছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে কয়েক হাজার টাকা কমে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা... বিস্তারিত