ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মচারীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হওয়া এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে চরম আর্থিক চাপে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ পরিস্থিতিতে তারা সর্বোচ্চ দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে বেতন কাঠামো কার্যকর করা হলে বাস্তব সুবিধা পাওয়া কঠিন হবে।
কর্মচারীরা জানান, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১,২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,২০০ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন।
তাদের অভিযোগ, বর্তমান বেতনে সংসার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যাংক, বীমা ও প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋণ নিচ্ছেন। মাস শেষে কিস্তি পরিশোধের পর হাতে থাকা অর্থ দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি পরিবার চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি চললেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন কর্মচারীরা। তাদের দাবি, পে-কমিশন গঠিত হলেও কার্যক্রমে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকার তিন বছরে তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করতে পারে। তবে এ ধরনের প্রস্তাব কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ১১ বছর অপেক্ষার পর ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে বাস্তব সুফল মিলবে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বেতন বৃদ্ধির প্রভাব কার্যত কমে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংগঠনের সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সর্বোচ্চ দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নই সময়ের দাবি।
কর্মচারীদের মতে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হলে মূল্যস্ফীতির চাপে বেতন বৃদ্ধির প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না। বরং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যকর বাস্তবায়নই একমাত্র সমাধান।
এ অবস্থায় তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে সর্বোচ্চ দুই ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হোক। তাদের মতে, প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতা কার্যকর করা হলে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং কর্মচারীরা স্বস্তি পাবেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র নতুন কমিটি ঘোষণা
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন যুগের শুরু: গাইডলাইন প্রকাশ করল বিএসইসি
- সাদিক কায়েমের বিয়ে নিয়ে যা জানা গেছে
- ৫৪ জেলায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ, আবেদন শুরু ১০ মে
- ব্যবসায় বড় লাফ ইউসিবি ও লিন্ডে বিডির
- ঢাবিতে প্রথমবারের মতো আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি কর্মশালা
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল
- ঈদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি, মাদরাসায় টানা ২১ দিন বন্ধ
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর যোগদান
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফের চালু বেত্রাঘাত! কার্যকর যেদিন থেকে
- রবির মুনাফায় আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি, ব্যাকফুটে শিপিং কর্পোরেশন
- ঈদকে সামনে রেখে মুনাফা তুলছেন বিনিয়োগকারীরা