ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

যেসব কারণে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার

২০২৬ জুন ২১ ১৮:৩১:৫৩

যেসব কারণে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, দানের ডেক সিলগালা, নতুন দানবাক্স স্থাপন, আনসার মোতায়েন, সিসি ক্যামেরা বসানো এবং মাজারকেন্দ্রিক অনিয়ম বন্ধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তবে সেই আলোচিত পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত তার জন্য বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পদ থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে সারওয়ার আলম জানান, সোমবার (২২ জুন) তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় এক সাংবাদিকের মন্তব্য, ‘মাজারে হাত দিয়ে ডিসি সারওয়ার আলমের হাত পুড়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে যোগদানের পর শুরুতে বেশ কিছু উদ্যোগের কারণে প্রশংসিত হন সারওয়ার আলম। তবে পরবর্তীতে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন। গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন।

এরপর গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক তিনটি ডেকও সিলগালা করা হয়। নতুন দানবাক্সের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়।

শুধু দান ব্যবস্থাপনাই নয়, মাজার এলাকায় মদ, গাঁজা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। তার দাবি ছিল, মাজারের আয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই, ফলে জনস্বার্থে এ খাতে প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন। তবে মাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শত বছরের রেওয়াজ ভেঙে প্রশাসন সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, যা ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পক্ষে ও বিপক্ষে মতবিভক্তি তৈরি হয়। একপক্ষ এটিকে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে সাহসী উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও অন্যপক্ষ একে ধর্মীয় ঐতিহ্যে অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ডেক সিলগালা এবং দানবাক্স প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তীব্র আপত্তি ওঠে। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হলো কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে, যদিও সরকারিভাবে কারণ জানানো হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পান। ভেজালবিরোধী অভিযানে তিনি তিন শতাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। পরে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি পান। সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও একাধিক ব্যতিক্রমী উদ্যোগে তিনি আলোচনায় ছিলেন। তবে শাহজালাল (রহ.) মাজার ইস্যুতে তার সর্বশেষ পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত তার প্রশাসনিক অবস্থানকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাজারে আজকের স্বর্ণ ও রুপার দাম প্রকাশ করা হয়েছে। ক্যারেটভেদে স্বর্ণ ও রুপার দামে পার্থক্য রয়েছে। আজকের স্বর্ণের... বিস্তারিত