ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ডাকসুর প্রদর্শনীতে উঠে এলো ৫ মে’র শাপলা চত্বর
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে স্মৃতি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরতে ‘রক্তে লাল সাদা জোব্বা’ শিরোনামে একটি ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এতে ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ, সহিংসতার প্রেক্ষাপট, হতাহত এবং পরবর্তী পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক দলিলচিত্র, আলোকচিত্র, সংবাদপত্রের কাটিং ও প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা ১১টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রদর্শনীটি সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে।প্রদর্শনীর সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি বলেন, ইতিহাসের আলোচিত এই ঘটনাকে তথ্যনির্ভরভাবে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিভিন্ন দাবি নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহিংসতার মুখোমুখি হন। কেউ তাদের সব দাবির সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন, কিন্তু মানুষ হত্যাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। হেফাজতের দাবি অনুযায়ী সেদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট ও তথ্য গোপনের কারণে এখনো প্রকৃত তথ্য পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। কতজন নিহত হয়েছেন কিংবা কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন—এসব প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার কোনো বিচার হয়নি, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ভিকটিমদেরই দায়ী করা হয়েছে। গাছ কাটা, দোকান লুট বা অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগগুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোর সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি সেদিন কী ঘটেছিল, কতটা কঠোর ছিল অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যম কীভাবে ঘটনাটি উপস্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়নি এবং নতুন প্রজন্মও যথেষ্ট জানার সুযোগ পায়নি। তাই ইতিহাসের এই অধ্যায় তুলে ধরা জরুরি।’
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির ঘোষিত ১৩ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। শাহবাগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কিছু ব্লগারের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হেফাজতে ইসলাম এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা, ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন এবং ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ করা। এসব দাবির ভিত্তিতে ঢাকায় বড় আকারের সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: ঢাবি প্রো-ভিসি
- তৃতীয় লিঙ্গদের হেনস্তার শিকার ডাকসু নেতা জুবায়ের
- দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম
- ‘গুলশানের চামেলি’ তে যৌনকর্মীর দালাল অ্যাডলফ খান
- নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, যা জানালেন অর্থমন্ত্রী
- আজ শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ