ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
ডাকসুর প্রদর্শনীতে উঠে এলো ৫ মে’র শাপলা চত্বর
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে স্মৃতি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরতে ‘রক্তে লাল সাদা জোব্বা’ শিরোনামে একটি ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এতে ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ, সহিংসতার প্রেক্ষাপট, হতাহত এবং পরবর্তী পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক দলিলচিত্র, আলোকচিত্র, সংবাদপত্রের কাটিং ও প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা ১১টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রদর্শনীটি সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে।প্রদর্শনীর সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি বলেন, ইতিহাসের আলোচিত এই ঘটনাকে তথ্যনির্ভরভাবে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিভিন্ন দাবি নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহিংসতার মুখোমুখি হন। কেউ তাদের সব দাবির সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন, কিন্তু মানুষ হত্যাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। হেফাজতের দাবি অনুযায়ী সেদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট ও তথ্য গোপনের কারণে এখনো প্রকৃত তথ্য পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। কতজন নিহত হয়েছেন কিংবা কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন—এসব প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার কোনো বিচার হয়নি, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ভিকটিমদেরই দায়ী করা হয়েছে। গাছ কাটা, দোকান লুট বা অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগগুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোর সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি সেদিন কী ঘটেছিল, কতটা কঠোর ছিল অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যম কীভাবে ঘটনাটি উপস্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়নি এবং নতুন প্রজন্মও যথেষ্ট জানার সুযোগ পায়নি। তাই ইতিহাসের এই অধ্যায় তুলে ধরা জরুরি।’
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির ঘোষিত ১৩ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। শাহবাগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কিছু ব্লগারের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হেফাজতে ইসলাম এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা, ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন এবং ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ করা। এসব দাবির ভিত্তিতে ঢাকায় বড় আকারের সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষ-জেনে নিন ফলাফল
- গান-কবিতায় প্রাণবন্ত ডুপডা’র বৈশাখ উৎসব
- শিক্ষাবৃত্তি দেবে ইবনে সিনা ট্রাস্ট, আবেদন শুরু
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- ১২৩তম প্রাইজবন্ড ড্র: দেখে নিন কোন নম্বরগুলো জিতল
- ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো আরও ১০ ব্যাংক
- নতুন ট্রেন্ড: ক্রেয়ন স্টাইলে প্রোফাইল ছবি বানাবেন যেভাবে
- জাপানের মেক্সট স্কলারশিপে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আবেদন শুরু
- ১:৮ অনুপাতে নতুন পে স্কেল, বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকা
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এপ্রিলের বেতন নিয়ে যা জানাল মাউশি
- আর্থিক প্রতিবেদনে নয়ছয়: ৩ অডিট ফার্ম ও ৪ অডিটর নিষিদ্ধ
- বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন পরিচালক নজরুল ইসলাম