ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রিং সাইনের অডিটে গরমিল—কালো তালিকায় একাধিক নিরীক্ষক
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইল লিমিটেডের গত চার অর্থবছরের (২০১৭-২০২০) নিরীক্ষা কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়ম ও দায়বদ্ধতার ঘাটতির প্রমাণ মিলেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)-কে অবহিত করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নিজ উদ্যোগে পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশনের এক সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে কোম্পানিটির নিরীক্ষা কার্যক্রমে জড়িত একাধিক অডিট ফার্ম ও সংশ্লিষ্ট এনগেজমেন্ট পার্টনারদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএসইসি সূত্র জানায়, নিরীক্ষা কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ে এফআরসি আগে কিছু ব্যবস্থা নিলেও তা কমিশনের কাছে যথেষ্ট কঠোর বা কার্যকর মনে হয়নি। ফলে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর বিধি ১৪(৫) অনুযায়ী কমিশন নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোং-কে তিন বছরের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এনগেজমেন্ট পার্টনার মো. আব্দুস সাত্তারকে পাঁচ বছরের জন্য একই ধরনের কাজে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া ২০১৯ সালের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী আতা খান অ্যান্ড কোং এবং সংশ্লিষ্ট এনগেজমেন্ট পার্টনার মকবুল আহমেদকে যথাক্রমে তিন ও পাঁচ বছরের জন্য বিএসইসির প্যানেল অব অডিটরসে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
একইভাবে ২০২০ সালের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং এবং সংশ্লিষ্ট এনগেজমেন্ট পার্টনার রামেন্দ্র নাথ বসাককেও যথাক্রমে তিন ও পাঁচ বছরের জন্য প্যানেল অব অডিটরসে অন্তর্ভুক্তির অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১৭ সালের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ অ্যান্ড আকতারের এনগেজমেন্ট পার্টনার কাঞ্চি লাল দাস মৃত্যুবরণ করায় তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা ও তালিকাভুক্তির তথ্য যাচাইয়ের জন্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং এফআরসিকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরীক্ষা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনিয়ম বা গাফিলতি থাকলে তা বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং বাজারে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
কমিশনের মতে, রিং সাইন টেক্সটাইলের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পার্টনাররা তাদের পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। নিরীক্ষা একটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজ, যেখানে অবহেলা সরাসরি বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে। এফআরসির আগের পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট প্রতিরোধমূলক না হওয়ায় কমিশনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এফআরসিকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে হবে। তার মতে, অডিট রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং পুরো শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- ৫৪ জেলায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ, আবেদন শুরু ১০ মে
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ঢাবিতে প্রথমবারের মতো আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি কর্মশালা
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল
- ঈদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি, মাদরাসায় টানা ২১ দিন বন্ধ
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফের চালু বেত্রাঘাত! কার্যকর যেদিন থেকে
- রবির মুনাফায় আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি, ব্যাকফুটে শিপিং কর্পোরেশন
- ঈদকে সামনে রেখে মুনাফা তুলছেন বিনিয়োগকারীরা
- পদত্যাগ করলেন ঢাবি শিক্ষক মোনামি
- বাংলাদেশিদের স্কলারশিপ দেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিমন্স ইউনিভার্সিটি, আবেদন শুরু
- কলকাতায় অমিত শাহ, কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী
- এমপিও শিক্ষকদের ঈদ বোনাস কবে, যা জানা গেল