ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে রিং শাইন টেক্সটাইলের বড় পদক্ষেপ

২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৫:০৬:৪১

ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে রিং শাইন টেক্সটাইলের বড় পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ মোকাবিলায় ঋণ পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যমান ব্যাংক দায় সমন্বয়ের লক্ষ্যে নতুন ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোম্পানিটি তাদের সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান লার্ক টেক্সটাইলস লিমিটেড থেকে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করবে। ঋণটির বিশেষ দিক হলো—এটি সম্পূর্ণ সুদমুক্ত, যা বর্তমান উচ্চ সুদের বাজারে কোম্পানির আর্থিক ব্যয় কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি অনুযায়ী, ঋণটি ১০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করে সমান বার্ষিক কিস্তিতে পুরো অর্থ পরিশোধ করা হবে। সংগৃহীত এই অর্থ সরাসরি ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি-এর বকেয়া ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার (মোট ঋণের প্রায় ১০ শতাংশ) মওকুফ সুবিধা পেয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার ডাউন পেমেন্ট হিসেবে প্রদান করে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। ফলে সুদ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা ভবিষ্যতে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রিং শাইন টেক্সটাইলস মূলত নিট ফেব্রিকস উৎপাদন ও তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত। তবে গত কয়েক বছরে উচ্চ ঋণভার ও আর্থিক জটিলতার কারণে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঋণ পুনর্গঠন সফল হলে দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট কাটিয়ে কোম্পানিটি আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারদর দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে শেয়ারটি ফেস ভ্যালুর কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সুদমুক্ত ঋণের এই উদ্যোগ বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। যদিও তারা সতর্ক করছেন—শুধু ঋণ পুনর্গঠন নয়, উৎপাদন সক্ষমতা ও অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার মূল চ্যালেঞ্জ।

তবে এই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এ ধরনের বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হলে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) বা বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-এ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যেখানে ঋণের সুদের হার দ্বি-অঙ্কে, সেখানে শূন্য শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া রিং শাইনের জন্য কৌশলগতভাবে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে কোম্পানির নগদ প্রবাহে চাপ কমবে এবং আর্থিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে—এই পরিকল্পনা কতটা স্বচ্ছভাবে অনুমোদিত হয় এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে কোম্পানি কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত