ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
১৭৮৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ৪ পরিচালকরা; মামলার প্রস্তুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চ আদালতের নির্দেশনা এবং বারবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস তাদের চারজন সাবেক পরিচালকের কাছ থেকে পাওনা ১৭৮৫ কোটি টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘদিন বকেয়া থাকা এই বিশাল অংকের ঋণ পুনরুদ্ধারে এখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।
পিপলস লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাগির হোসেন খান বলেন, “আমরা এই চার পরিচালকের স্থায়ী ঠিকানায় বারবার চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। আদালত তাদের ঋণ পরিশোধের জন্য ছয় মাস সময় দিলেও জানুয়ারির নির্ধারিত সময়সীমা কোনো সাড়া ছাড়াই পার হয়ে গেছে।” তিনি আরও জানান, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং নতুন নির্দেশনার জন্য আদালতে একটি আবেদনও করা হয়েছে।
বকেয়া আদায়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিযুক্ত পরিচালকদের বর্তমান পরিস্থিতি। সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান এবং সাবেক পরিচালক কবির উদ্দিন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। অন্য এক পরিচালক বিশ্বজিৎ কুমার রায় বর্তমানে পলাতক। তবে আরাফিন সামসুল আলামিন এখনো ব্যবসায়িকভাবে সক্রিয় এবং সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট ও এসএ স্পিনিং মিলসের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
২০২১ সালে আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এক বিশেষ ফরেনসিক অডিটে দেখা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত পিপলস লিজিংয়ের বড় খেলাপিদের মোট ২৮০০ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে এই চারজন উদ্যোক্তা-পরিচালকের কাছেই পাওনা ছিল ১৪১৩ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ সুদে-আসলে এই পাওনার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮৫ কোটি টাকা।
অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সাল পর্যন্ত মতিউর রহমানের বকেয়া ছিল ৫৬৫.৪৭ কোটি টাকা, কবির উদ্দিনের ৪০৪.৩৮ কোটি টাকা, আরাফিন সামসুলের ৪১৫.৬৬ কোটি টাকা এবং বিশ্বজিৎ রায়ের ২৮.৪৭ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই পরিচালকরা পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ নিয়েছেন এবং ফান্ড সরিয়ে নিয়েছেন। প্রায় ৬৫ শতাংশ ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত রাখা হয়নি, আর যেখানে জামানত আছে তাও ঋণের তুলনায় নগণ্য।
ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও সুশাসনের অভাবে ২০১৫ সাল থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারছে না পিপলস লিজিং। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের (লিভুইডেশন) নির্দেশ দিলেও ২০২১ সালে তা প্রত্যাহার করে একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেওয়া হয়।
বর্তমান পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করেছে এবং আমানতকারীদের ধাপে ধাপে ৮৫ থেকে ৯০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের কাছে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তার সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটি সীমিত আকারে ঋণ কার্যক্রমও শুরু করেছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)