ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
নেগেটিভ ইক্যুইটি: বিএসইসির নজরে ২১ ব্রোকারেজ হাউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের দীর্ঘদিনের সংকট 'নেগেটিভ ইক্যুইটি' নিরসনে কঠোর অবস্থানে ফিরেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি প্রভিশন সংরক্ষণের জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করায় তিনটি ব্রোকারেজ হাউসের আবেদন নামঞ্জুর করেছে কমিশন। একই সঙ্গে, আরও দুটি ব্রোকারেজ হাউসের কাছে তাদের গৃহীত পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও সংশোধিত প্রস্তাব তলব করা হয়েছে।
আবেদন বাতিল ও তলব
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশে আবেদন বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বি অ্যান্ড বি এসএস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং এলিগ্যান্ট স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে তাদের পূর্বের দাখিলকৃত পরিকল্পনার অসামঞ্জস্যতা কাটিয়ে নতুন করে বিস্তারিত তথ্যসহ পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।
বাজারের দীর্ঘমেয়াদী সংকট
২০১০ সালের ধসের পর থেকে জমে থাকা নেগেটিভ ইক্যুইটি বা মার্জিন ঋণের অনাদায়ী ক্ষতি এখন শেয়ারবাজারের জন্য এক বিশাল বোঝা। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ কমে ৭ হাজার ৩৫১ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। বিএসইসির নতুন চিঠিতে নেগেটিভ ইক্যুইটির হিসাব এবং এর ওপর আরোপিত সুদের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বাড়ছে প্রশাসনিক চাপ
কেবল আবেদন নাকচই নয়, নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ ২১টি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন। এসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের ব্যাখ্যা, দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির সাম্প্রতিক কঠোরতায় বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ব্রোকারেজ হাউজগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
বিনিয়োগকারী পুনর্বাসনে ডিবিএর প্রস্তাব
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফিরিয়ে আনতে এবং নেগেটিভ ইক্যুইটির প্রভাব কমাতে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্টারেস্ট ওয়েভার, ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং ক্যাপিটাল গেইনের ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি। ডিবিএ মনে করে, বিদ্যমান ১০ লাখ টাকার কর অব্যাহতির সীমা তুলে দিলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে সক্রিয় হওয়ার সাহস পাবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন কমিশন সভায় শর্তসাপেক্ষে শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে দিলেও এবার বিএসইসি তাদের অবস্থান কঠোর করেছে। আর্থিক সক্ষমতা যাচাই ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কমিশন এখন আর ঢালাওভাবে সময় বাড়াতে রাজি নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের খেলা চলছে: ব্যাটিংয়ে টাইগাররা-দেখুন সরাসরি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ এপ্রিল)
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর খেলাটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনতে প্রবাসীদের উৎসাহের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম
- শীর্ষ ১০ ইহুদিবিদ্বেষী প্রভাবশালীদের তালিকা প্রকাশ করল ইসরাইল
- সময় কমিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সিদ্ধান্ত
- বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটি
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর
- রেকর্ড মুনাফা করে ডিভিডেন্ডে চমক দেখাল ইস্টার্ন ব্যাংক
- কপার টি: নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
- ঋণ জটিলতা ও লোকসানের পাহাড়, তবুও রহস্যজনকভাবে বাড়ছে কোম্পানির শেয়ারদর
- শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দেশবাসীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের নববর্ষের শুভেচ্ছা
- ঢাবির ক্ষণিকা বাস দু/র্ঘটনায় আ/হত ৮ শিক্ষার্থী
- এক মাসেও অফিস মেলেনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের