ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাজার মন্দার মধ্যেও ডিএসইতে দুর্বল শেয়ারের চমক
নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বৈশ্বিক ও দেশীয় বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক অদ্ভুত চিত্র দেখা গেছে। মার্চের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, যেসব কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল এবং দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে—বিশেষ করে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) শেয়ারগুলো—তারাই শীর্ষ দরবৃদ্ধির তালিকায় উঠে এসেছে।
ডিএসইর মাসিক তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শীর্ষ দশ দরবৃদ্ধিকারী কোম্পানির মধ্যে অর্ধেকই ছিল এনবিএফআই খাতের। এসব কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক উত্থান হয়েছে, যদিও এদের ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের শেয়ার ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। একইভাবে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৩ টাকা ৩০ পয়সা, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও ফারইস্ট ফাইন্যান্স উভয়ই ৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ দর বেড়ে ৪ টাকা এবং এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ৭০ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে ৩ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। তালিকার বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে হামিদ ফেব্রিকস, ফ্যামিলিটেক্স (বিডি), আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, অ্যাটলাস বাংলাদেশ এবং প্যাসিফিক ডেনিমস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মূলত বাজারে লো-ক্যাপ বা ফটকা কারবারের প্রভাবকেই তুলে ধরে।
মার্চ মাসে ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ১৭৩টির দর বেড়েছে, ১৮৩টির কমেছে এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। সামগ্রিক বাজারের এই দুর্বল ধারার মধ্যেও লেনদেনের বড় একটি অংশ দখল করে ছিল ম্যানুফ্যাকচারিং খাত। ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল, প্রকৌশল, সিমেন্ট ও খাদ্য খাত মিলিয়ে মোট ১০ হাজার ২১১ কোটি টাকার লেনদেনের ৪৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্থাৎ ৪ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা এসেছে এই খাত থেকে। এছাড়া আর্থিক খাত থেকে ২৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা ও বিবিধ খাত থেকে ২৩ দশমিক ০৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এনবিএফআই খাতের এই অস্বাভাবিক উত্থানের পেছনে কোনো মৌলিক কারণ নেই। অনেকগুলো এনবিএফআই বর্তমানে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তির আশঙ্কায় ভুগছে। দীর্ঘ সময় ধরে দরপতনের পর শেয়ারগুলোর দাম তলানিতে ঠেকেছিল, আর সেই সুযোগে কিছু মহল ফটকা কারবারের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে মুনাফা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফেব্রুয়ারি মাসেও প্রায় একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে লোকসানি এবং দুর্বল মৌলভিত্তির প্রতিষ্ঠানের এমন উত্থান পুঁজিবাজারের অস্থিরতা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা