ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
অদক্ষদের হাতে রাষ্ট্র গেলে জনগণ ভোগান্তিতে পড়ে: স্পিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতের তত্ত্বাবধায়ক (অন্তর্বর্তীকালীন) সরকার অভিজ্ঞতার অভাবে জনগণের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রফেসর ইউনূস একজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তি হলেও দেশের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে অর্থনীতির সূচক নিম্নমুখী হয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাতেও ঘাটতি দেখা গেছে, যেমন হামের টিকার অভাবে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে জনগণকে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে, কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে সফল হয়নি। তবে তাদের একটি বড় অর্জন হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। এ জন্য তিনি বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। তার মতে, দেশ এখন আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ভোলার সার্কিট হাউসে তিন দিনের সরকারি সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া কিছু বিষয় এখনও রয়ে গেছে, যার মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কয়েকজন ব্যক্তি কীভাবে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে, যেখানে এ দায়িত্ব কেবল জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। তিনি দাবি করেন, এমন কিছু অস্বাভাবিক নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছিল যাতে ব্যক্তিগত নির্দেশেই সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং সংসদেও তা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে। যদিও কিছু বিষয়ে তারা আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ যদি তাদের সমর্থন দেয়, তবে তারা সেই আপত্তিগুলো কার্যকর করতে পারবে। তার মতে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য খুব বেশি নয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই দেশে একদলীয় শাসন চালু হয়। গত ১৬-১৭ বছরে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি নিজের ২০১৮ সালের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সে সময় তিনি ১৬ দিন ঘরবন্দি ছিলেন এবং তার অনুপস্থিতিতে ‘সন্ত্রাসী’ প্রার্থী নির্বাচিত হয়।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে, বিশেষ করে ছাত্র-যুবকদের আন্দোলনের ফলে দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। অনেক তরুণ প্রাণ বিসর্জন দিয়ে এই পরিবর্তন সম্ভব করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্পিকারের সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি
- টানা ৫ দিনের বড় ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ এপ্রিল)
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিল
- শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সম্ভাব্য সময় জানাল মন্ত্রণালয়
- বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
- বৈশাখী ভাতা নিয়ে সর্বশেষ যা জানাল মাউশি
- শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ট্রাস্ট
- ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে চমক দিলেন পরীমনি
- ফের বাড়ছে স্বর্ণের দাম
- সংসদ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম
- জেলাভিত্তিক পুলিশ নিয়োগ, দেখে নিন কোথায় কত পদ
- সংসদে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী