ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
অদক্ষদের হাতে রাষ্ট্র গেলে জনগণ ভোগান্তিতে পড়ে: স্পিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতের তত্ত্বাবধায়ক (অন্তর্বর্তীকালীন) সরকার অভিজ্ঞতার অভাবে জনগণের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রফেসর ইউনূস একজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তি হলেও দেশের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে অর্থনীতির সূচক নিম্নমুখী হয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাতেও ঘাটতি দেখা গেছে, যেমন হামের টিকার অভাবে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে জনগণকে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে, কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে সফল হয়নি। তবে তাদের একটি বড় অর্জন হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। এ জন্য তিনি বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। তার মতে, দেশ এখন আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ভোলার সার্কিট হাউসে তিন দিনের সরকারি সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া কিছু বিষয় এখনও রয়ে গেছে, যার মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কয়েকজন ব্যক্তি কীভাবে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে, যেখানে এ দায়িত্ব কেবল জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। তিনি দাবি করেন, এমন কিছু অস্বাভাবিক নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছিল যাতে ব্যক্তিগত নির্দেশেই সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং সংসদেও তা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে। যদিও কিছু বিষয়ে তারা আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ যদি তাদের সমর্থন দেয়, তবে তারা সেই আপত্তিগুলো কার্যকর করতে পারবে। তার মতে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য খুব বেশি নয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই দেশে একদলীয় শাসন চালু হয়। গত ১৬-১৭ বছরে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি নিজের ২০১৮ সালের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সে সময় তিনি ১৬ দিন ঘরবন্দি ছিলেন এবং তার অনুপস্থিতিতে ‘সন্ত্রাসী’ প্রার্থী নির্বাচিত হয়।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে, বিশেষ করে ছাত্র-যুবকদের আন্দোলনের ফলে দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। অনেক তরুণ প্রাণ বিসর্জন দিয়ে এই পরিবর্তন সম্ভব করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্পিকারের সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের ঈদের শুভেচ্ছা
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ববি হাজ্জাজের
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা