ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
শেয়ারবাজারে পাহারাদার হিসেবে আসছে ‘রোবট’ ও ‘ব্লকচেইন’
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে গত কয়েক দশকের দীর্ঘস্থায়ী আস্থার সংকট কাটাতে এবার আমূল পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ১৯৯৬ এবং ২০১০-১১ সালের ভয়াবহ ধসের দুঃসহ স্মৃতি এখনো বিনিয়োগকারীদের তাড়া করে বেড়ায়। সেই সাথে সাম্প্রতিক সময়ের আইপিও জালিয়াতি ও কারসাজির নতুন নতুন কৌশল বাজারের স্থিতিশীলতাকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত সেকেলে নজরদারি ব্যবস্থার পরিবর্তে ‘ব্লকচেইন’ এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা এআই-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জরিমানা হলেও অধরা প্রতিকার
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বাজারের নাজুক চিত্রটি স্পষ্ট হয়। গত ১৮ মাসে বিভিন্ন কারসাজি ও অনিয়মের দায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রায় ১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচ আর দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই বিশাল অংকের জরিমানার খুব সামান্যই আদায় করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল জরিমানা করে কারসাজি থামানো সম্ভব নয়; বরং জালিয়াতির সুযোগটাই গোঁড়া থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। আর এখানেই ‘ব্লকচেইন’ প্রযুক্তি হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এই প্রযুক্তিতে প্রতিটি লেনদেন ডিজিটালভাবে এমনভাবে সংরক্ষিত থাকে, যা কোনোভাবেই পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা জালিয়াতি করা সম্ভব নয়। ফলে আইপিও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে এবং ‘স্মার্ট কনট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে তহবিলের অপব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে।
রিয়েল-টাইম নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
অন্যদিকে, বাজারের অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে ‘ডিজিটাল পাহারাদার’ হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব এসেছে। মানুষের চোখের নজরদারি এড়ানো সহজ হলেও এআই-এর বিশ্লেষণ ক্ষমতা অত্যন্ত প্রবল। এটি চোখের পলকে কোটি কোটি লেনদেন বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক প্যাটার্ন এবং কারসাজি চক্রের গোপন নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করতে সক্ষম। ভারত ও ব্রাজিলের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো ইতিমধ্যে তাদের শেয়ারবাজারে এই ডিজিটাল সংস্কার এনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।
বিপজ্জনক সংকেত ও স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের বাজারমূল্য জিডিপির মাত্র ৬ শতাংশে নেমে আসা একটি বড় ধরনের বিপদের সংকেত। দ্রুত ব্লকচেইনভিত্তিক আইপিও এবং সেকেন্ডারি মার্কেটে এআই নজরদারি চালু করা না গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে শেয়ারবাজারকে একটি মজবুত আর্থিক ভিত হিসেবে গড়ে তুলতে এই প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার এখন অপরিহার্য। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাজারে স্বচ্ছতা ফিরলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যেমন আস্থা পাবেন, তেমনি শক্তিশালী হবে দেশের অর্থনীতি।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি
- টানা ৫ দিনের বড় ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ এপ্রিল)
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিল
- শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সম্ভাব্য সময় জানাল মন্ত্রণালয়
- অনলাইন ক্লাস হতে পারে যেসব স্কুল-কলেজে
- বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
- বৈশাখী ভাতা নিয়ে সর্বশেষ যা জানাল মাউশি
- ফের বাড়ছে স্বর্ণের দাম
- শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ট্রাস্ট
- সংসদ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ
- দেশে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম