ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২

অস্তিত্ব সংকটে এসএমই খাত, বন্ধ হওয়ার পথে অনেক প্রতিষ্ঠান

২০২৬ এপ্রিল ১৩ ১৩:৫০:৩৮

অস্তিত্ব সংকটে এসএমই খাত, বন্ধ হওয়ার পথে অনেক প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহে এই খাতের উৎপাদন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, যা জাতীয় অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মালিক সমিতি (নাসিব)-এর সভাপতি মির্জা নূরুল গণি শোভন বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ হওয়ার পথে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না।”

দেশের জিডিপিতে ২৮ শতাংশের বেশি অবদান রাখা এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করা এই খাতটি এখন করোনা পরবর্তী সময়ের চেয়েও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

চামড়া ও রাসায়নিক নির্ভর খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘রাজেক্স লেদার’-এর স্বত্বাধিকারী ইলিয়াস হোসেন জানান, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের রাসায়নিকের দাম দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় চীন থেকে আমদানিকৃত গাম বা পেস্টিংয়ের দামও চড়া। কাঁচামালের দাম বাড়ায় জুতো বা বেল্টের মতো পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

উৎপাদন কমলেও বিক্রির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি সময়সীমা। ‘টপেক্স লেদার’-এর মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৭টা বা ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হওয়ায় তারা খুচরা ও পাইকারি—উভয় বাজারেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ, চাকরিজীবী ক্রেতারা সাধারণত অফিস শেষ করে সন্ধ্যার পরই কেনাকাটা করতে আসেন।

অন্যদিকে, মানিকগঞ্জের ‘নয়ন হ্যান্ডিক্রাফটস’-এর স্বত্বাধিকারী মনোরঞ্জন সরকার নয়ন জানান, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে করপোরেট ও পাইকারি অর্ডার অনেক কমে গেছে। নিয়মিত গ্রাহকরাও এখন আগের মতো পণ্য কিনছেন না।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, প্রান্তিক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ায় উৎপাদন ও বিপণন—উভয়ই নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাসিব সভাপতি মির্জা নূরুল গণি শোভন জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলো এখন সিঙ্গেল ডিজিট (এক অংক) সুদের হার থেকে সরে এসেছে। উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার পর উচ্চ সুদে ঋণ পরিশোধ করা অসম্ভব। এসএমই অর্থনীতিকে বাঁচাতে সরকারকে অবশ্যই ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে ফিরিয়ে আনতে হবে।”

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত