ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২
অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, যানজট এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত (হাইব্রিড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ পদ্ধতিতে অনলাইন ক্লাস হলেও শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিত থেকেই পাঠদান করতে হবে বলে জানান তিনি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে নয়, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে যেমন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেসব প্রতিষ্ঠানকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এর মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়, যানজট কমানো এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস পরিচালিত হলেও শিক্ষকদের অবশ্যই স্কুলে এসে পাঠদান করতে হবে। তাদের কোনো ছুটি থাকবে না, কারণ স্মার্ট ক্লাসরুমে সরাসরি উপস্থিত থেকেই অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠদান করতে হবে। প্রয়োজনে একজন শিক্ষক প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়লে অন্য শিক্ষক সহায়তা করতে পারবেন। তাই শিক্ষকদের নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, বিভিন্ন সংকট নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থবির না রেখে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে হবে। অতীতে যুদ্ধ, প্রযুক্তির অগ্রগতি ও সামাজিক পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে বর্তমান জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে প্রযুক্তিনির্ভর ও পেপারলেস হবে। সংসদ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে, যার জন্য শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি জানান, জ্বালানি সাশ্রয় ও যানজট নিরসনে নির্দিষ্ট কিছু সক্ষম স্কুলে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বয়ে পাইলট ভিত্তিতে কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সপ্তাহের কিছু দিন অনলাইন এবং কিছু দিন অফলাইন ক্লাস নেওয়া হতে পারে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কমলেও ট্রাফিক চাপ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় হবে এবং পাঠক্রমও অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত যানজট ও জ্বালানি অপচয় হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনাকালে অনলাইন শিক্ষার অভিজ্ঞতা থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে হলে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নিশ্চিত করতে নজরদারি প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারণ ও অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পরিবহনের ব্যবহার বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে সরকার ধাপে ধাপে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান তিনি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারত ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল, লাইভ দেখবেন যেভাবে
- অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে যা জানা গেল
- অস্তিত্ব সংকটে ৩৭ কোম্পানি: অডিটরদের ‘লাল সংকেত’
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ এপ্রিল)
- রাজধানীতে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
- গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি ফল প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ এপ্রিল)
- ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টের পেল বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ এপ্রিল)
- যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
- স্বামীর ছবি শেয়ার করলেন সিমরিন লুবাবা
- ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
- হঠাৎ স্বর্ণের বাজারে বড় পতন
- ইরানের ভেতরে আটকা মার্কিন ক্রু, উদ্ধার অভিযানে তুমুল লড়াই