ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধস: মার্চে কমেছে ৫৯ শতাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতা এবং দেশীয় অর্থনীতির নানা সীমাবদ্ধতায় দেশের শেয়ারবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। গত মার্চ মাসে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক এবং গ্রামীণফোনের মতো শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন (ব্লু-চিপ) কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির ধুম পড়েছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে বিদেশি লেনদেন কমেছে প্রায় ৫৯ শতাংশ।
মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে শেয়ার বিক্রির পরিমাণ ছিল ২১৫ কোটি টাকা, যার বিপরীতে শেয়ার কেনার পরিমাণ ছিল মাত্র ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাস শেষে বড় অংকের বিদেশি পুঁজি বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে।
বিক্রির তালিকায় শীর্ষে ছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির ৭৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর ফলে ফেব্রুয়ারিতে অলিম্পিকে বিদেশিদের যে ৩০.২৬ শতাংশ শেয়ার ছিল, মার্চ শেষে তা কমে ২৭.৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের ৩৪ কোটি টাকা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ৩২ কোটি টাকা এবং গ্রামীণফোনের ২৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন বিদেশিরা। এর ফলে গ্রামীণফোনে বিদেশিদের হিস্যা কমে মাত্র ০.৫১ শতাংশে নেমেছে। এছাড়া রেনাটা লিমিটেড, সিটি ব্যাংক এবং বিএটি বাংলাদেশের শেয়ারেও ছিল বিক্রির চাপ।
বিপরীতে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, রিং শাইন টেক্সটাইল এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের মতো হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানিতে সামান্য বিদেশি বিনিয়োগ আসতে দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশীয় কাঠামোগত দুর্বলতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের গবেষণা প্রধান সেলিম আফজাল শাওন বলেন, “নির্বাচনের পর আমরা আশা করেছিলাম বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। উল্টো অপ্রত্যাশিতভাবে বিনিয়োগ কমেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এছাড়া করপোরেট সুশাসনের অভাব, তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকা এবং ডিভিডেন্ড নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতাও বিদেশিদের নিরুৎসাহিত করছে।
শেয়ারবাজারের এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছেন, বাজারে কারসাজি ও অনিয়ম রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ডিজিটাল রূপান্তর এবং তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)