ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২

পুঁজি সরাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা, ২৫ ব্লু চিপ কোম্পানি

২০২৬ এপ্রিল ০৮ ০৬:০৭:২৫

পুঁজি সরাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা, ২৫ ব্লু চিপ কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদায়ী মার্চ মাসে দেশের শেয়ারবাজার থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা, যার বড় প্রভাব পড়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক ও গ্রামীণফোনের মতো নামী কোম্পানিগুলোর ওপর। শক্তিশালী মৌলভিত্তির এই শেয়ারগুলো থেকে বিদেশিদের হাত গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বিস্ময়করভাবে কমেছে। এ মাসে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭২ কোটি টাকা, যা আগের মাসের চেয়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ কম। উদ্বেগের বিষয় হলো, বিদেশিরা এই সময়ে ২১১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করলেও বিপরীতে শেয়ার কিনেছেন মাত্র ৫০ কোটি টাকার—যা বাজারের ক্যাশ প্রবাহে বড় ধরনের বহিঃপ্রবাহ বা নিট আউটফ্লো নির্দেশ করছে।

বিক্রির চাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, যেখান থেকে বিদেশিরা প্রায় ৭৬ কোটি টাকার শেয়ার সরিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে কোম্পানিটিতে বিদেশি শেয়ার ধারণের অনুপাত ৩০.২৬ শতাংশ থেকে এক লাফে ২৭.৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। একইভাবে ৩৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির চাপে ব্র্যাক ব্যাংকে বিদেশিদের মালিকানা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৪৮ শতাংশে।

এছাড়া শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে ৩২ কোটি এবং গ্রামীণফোনে ২৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে গ্রামীণফোনে বিদেশিদের শেয়ার ধারণের হার কমে এখন মাত্র ০.৫১ শতাংশে ঠেকেছে, যা সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে।

একই ধারায় অন্যান্য বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারেও ব্যাপক বিক্রির চাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেনাটা লিমিটেড থেকে ১১.৫০ কোটি, সিটি ব্যাংক থেকে ১০ কোটি এবং বিএটি বাংলাদেশ থেকে ৪.৬০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে।

এছাড়া বিএসআরএম লিমিটেড, লাফার্জহোলসিম, ম্যারিকো বাংলাদেশ, প্রাইম ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা ও আইডিএলসি ফিন্যান্সের মতো বিভিন্ন খাতের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানেও বিদেশিরা তাদের অংশীদারিত্ব কমিয়েছেন। মূলত বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আস্থার অভাব থেকেই এমন গণবিক্রির ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বড় শেয়ারে অনীহা থাকলেও কিছু স্বল্প মূলধনী কোম্পানিতে বিদেশিদের যৎসামান্য বিনিয়োগ লক্ষ্য করা গেছে। যেমন ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সে ২.৩৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনায় সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ০.৫৯ শতাংশে। এছাড়া রিং শাইন ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলেও সামান্য বিনিয়োগের প্রবাহ দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে গত মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২৫টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে তাদের শেয়ার কমিয়ে দিয়েছেন, বিপরীতে মাত্র ৮টিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। বাকি ৮১টি কোম্পানিতে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে, যা নির্দেশ করে যে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন অত্যন্ত সতর্ক ও নির্বাচনী কৌশল অবলম্বন করছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মানসম্পন্ন ও ভালো ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা কম হওয়ায় বিদেশিরা হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল থাকে। ফলে বাজারে সামান্য অস্থিরতা দেখা দিলেই এসব শেয়ারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হয়।

পাশাপাশি করপোরেট সুশাসনের অভাব, আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এবং জটিল করনীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করার অন্যতম কারণ। এছাড়া লভ্যাংশ বা বিনিয়োগের অর্থ নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার জটিলতাও এই খাতে দীর্ঘদিনের একটি অমীমাংসিত সমস্যা।

এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকার শেয়ারবাজার-এ শৃঙ্খলা ফেরাতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে। অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, বাজারে অনিয়ম ও কারসাজি রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চলতি অর্থবছর ও এর পরবর্তী সময়ে বাজারকে বিনিয়োগবান্ধব করতে ডিজিটাল রূপান্তর এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

এএেএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

মার্চে কমেছে মূল্যস্ফীতি, তবু স্বস্তি নেই শ্রমজীবীদের

মার্চে কমেছে মূল্যস্ফীতি, তবু স্বস্তি নেই শ্রমজীবীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমে আসায় দেশে মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির তুলনায়... বিস্তারিত