ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ২১:১১:৪৬

বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য নিম্নমুখী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতির প্রভাবেই সোমবার বাজারে দরপতন দেখা যায়।

সোমবার লন্ডনের স্থানীয় সময় সকালে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৪ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ১০৮.৩৯ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৩৩ ডলার বা ১.২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০.২১ ডলারে লেনদেন হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ডব্লিউটিআই-এর দাম ১১ শতাংশ এবং ব্রেন্টের দাম ৮ শতাংশ বেড়েছিল, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধির রেকর্ড। সেই তুলনায় রবিবারের দরপতনকে বাজার বিশ্লেষকরা তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে উল্লেখ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক খসড়া পরিকল্পনা হাতে পেয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা এখনই হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেবে না। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তেহরান চুক্তিতে না পৌঁছালে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আসা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও শর্ত চূড়ান্ত করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রপ্তানির এই গুরুত্বপূর্ণ পথ প্রায় অচল হয়ে পড়ে। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ওমান, ফ্রান্স ও জাপানের কয়েকটি জাহাজ এই রুট পার হতে সক্ষম হয়েছে। ইরান নির্দিষ্ট কিছু বন্ধুভাবাপন্ন দেশের জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেল শোধনাগারগুলো বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। ভারতের শোধনাগারগুলোও জ্বালানি চাহিদা পূরণে তাদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পিছিয়ে দিচ্ছে।

তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস আগামী মে মাসে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে প্রধান উৎপাদনকারীদের সক্ষমতা সীমিত থাকায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল রপ্তানি অবকাঠামো ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে, যা বৈশ্বিক বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত