ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

দুই মাসে শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬৩৩ শতাংশ, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

২০২৬ মার্চ ১৯ ১৮:২৩:০০

দুই মাসে শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬৩৩ শতাংশ, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) শেয়ার দরে গত দুই মাসে অবিশ্বাস্য উল্লম্ফন দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর প্রায় ৬৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ১৪ জানুয়ারি যেখানে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর ছিল মাত্র ৯০ পয়সা সেখানে ঈদের ছুটির আগে শেষ কার্যদিবস ১৭ মার্চ লেনদেন শেষে এর দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৬০ পয়সায়। এই অভাবনীয় বৃদ্ধির ফলে বিআইএফসি-র শেয়ার দর এখন নয় মাস আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে, যখন শেয়ারটি ৬ থেকে ৭ টাকা রেঞ্জে কেনাবেচা হতো।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন দুর্বল ও অনিয়ম-জর্জরিত ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের প্রাথমিক আলোচনা শুরু করে, তখন বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কে বাজারে ব্যাপক বিক্রয়চাপ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিআইএফসি-র শেয়ারের দাম পুঁজিবাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ টাকার নিচে নেমে ৯০ পয়সায় পৌঁছায়। তবে পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য তিন মাস সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে শেয়ারের দাম পুনরায় বাড়তে শুরু করে। প্রথম ধাপে টানা ২২ কার্যদিবস বেড়ে দর ৩.৯ টাকায় পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় ধাপে এটি ৭.২ টাকা পর্যন্ত স্পর্শ করে। মাঝখানে কিছু সংশোধন হলেও সর্বশেষ কার্যদিবসে শেয়ারটি ৬ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

তবে শেয়ার দরের এই ব্যাপক উত্থানের বিপরীতে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক। নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিআইএফসি-র পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মোট দায় তার সম্পদের তুলনায় ১ হাজার ২৬৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বেশি।

নিরীক্ষক সতর্ক করেছেন যে, পর্যাপ্ত মূলধন বৃদ্ধি বা দীর্ঘমেয়াদী ঋণের মাধ্যমে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে ভবিষ্যতে বিআইএফসি-র পক্ষে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া চরম অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ১.৫ শতাংশ হারে নগদ জমা (সিআরআর) রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণেও ব্যর্থ হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত