ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

শেয়ারবাজারের আকার জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য বিএসইসির 

২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৪৫:১২

শেয়ারবাজারের আকার জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য বিএসইসির 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বড় ধরনের সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের লক্ষ্য আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বর্তমান প্রায় ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে জিডিপির অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিএসইসি ও এডিবির প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে পর্যালোচনা করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ডায়াগনস্টিক’ পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে বাজারের দুর্বলতা, কাঠামোগত সমস্যা এবং সম্ভাব্য সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হবে।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজার মূলধন জিডিপির মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ, যা প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই অবস্থার পরিবর্তনে বড় ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে কর কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এবং অন্যান্য নীতিগত সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে শুধু ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর না করে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, সে জন্য বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কমিশনের কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করার উদ্যোগও আলোচনায় উঠে আসে। এ উদ্দেশ্যে একটি ‘বন্ড গ্যারান্টি ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এডিবি এই ফান্ডের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে বিএসইসির কমিশনার ফারজানা লারুখ, পরিচালক মো. আবুল কালাম এবং এডিবির সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট মানোহারি গুনাবর্ধনেসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এডিবি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের এবং বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, এই যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশের শেয়ারবাজার আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং গতিশীল হয়ে উঠবে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

শেয়ারবাজার এর অন্যান্য সংবাদ