ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

বিশ্ব শেয়ারবাজারে লাল বাতি: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মাশুল দিচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা

২০২৬ মার্চ ১৪ ১৬:৩২:০৭

বিশ্ব শেয়ারবাজারে লাল বাতি: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মাশুল দিচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় বড় ধরনের দরপতন হয়েছে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারগুলোতে। সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়ালেও অপরিশোধিত তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা কাটছে না, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩.১৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম ৪২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান যখন বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়, তখন থেকেই তেলের বাজারে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

তেলের দাম বাড়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে—এমন আশঙ্কায় শুক্রবার দিনভর অস্থির ছিল পুঁজিবাজার। ফরেক্স ডট কমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো সমাধান না আসায় বাজারের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। জরুরি রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়া এবং রুশ তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো পদক্ষেপগুলো নিয়েও বিনিয়োগকারীরা তেলের সঠিক দাম নির্ধারণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

যুদ্ধের আগে ধারণা করা হচ্ছিল যে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাতে শুরু করবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে বিশ্বের অন্তত সাতটি বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সুদের হার কমানোর পরিবর্তে সেটি অপরিবর্তিত রাখতে পারে অথবা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ১.৪ শতাংশ থেকে কমে ০.৭ শতাংশে নেমেছে। গত জানুয়ারিতে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ২.৮ শতাংশ, যা ফেডারেল রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেলের দাম বাড়ার আগের এই মূল্যস্ফীতি এখন জ্বালানি সংকটের কারণে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বৈশ্বিক এই অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে। এ জে বেল-এর ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর রাস মোল্ড জানান, আগামী সপ্তাহের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজার এখন তাকিয়ে আছে তারা ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের দাম সামাল দিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় সেদিকে।

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

শেয়ারবাজার এর অন্যান্য সংবাদ