ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

নাভানা ফার্মায় চেয়ারম্যান-এমডি নিয়োগ নিয়ে দ্বন্দ্ব, তদন্তে বিএসইসি

২০২৬ মার্চ ১৪ ১৬:১১:৪৮

নাভানা ফার্মায় চেয়ারম্যান-এমডি নিয়োগ নিয়ে দ্বন্দ্ব, তদন্তে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনিয়ম এবং শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ৮ মার্চ কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিলেও ১০ মার্চ এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে চার সদস্যের এই কমিটিকে মাত্র সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তদন্ত কমিটিতে বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক লুৎফুল কবির ও দেলোয়ার হোসেন এবং সহকারী পরিচালক মতিউর রহমান ও নিজাম উদ্দিনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কমিটি মূলত কোম্পানির সাম্প্রতিক পর্ষদ সভাগুলোতে আইনগত কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করবে।

এই বিরোধের মূলে রয়েছে গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কোম্পানির ৬৫তম পর্ষদ সভা। ওই দিন সভার নির্ধারিত এজেন্ডা অনুমোদন শেষে চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক সাইকা মাজেদ আনুষ্ঠানিকভাবে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, সভা স্থগিত হওয়ার পর পর্ষদের একটি অংশ পুনরায় সমবেত হয়ে জাভেদ কায়সার আলীকে নতুন চেয়ারম্যান এবং সাঈদ আহমেদকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত করেন। একই সাথে তারা কোম্পানির বর্তমান সচিবকেও পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।

বর্তমান চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদ এই নিয়োগগুলোকে সম্পূর্ণ অবৈধ দাবি করে বিএসইসিতে আবেদন জানিয়েছেন। তার মতে, সভা আইনগতভাবে শেষ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, যার কোনো বৈধতা নেই। এছাড়া প্রতিপক্ষ গ্রুপের পক্ষ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগে তিনি গুলশান থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি কোম্পানির পর্ষদ সদস্য ও কোম্পানি সচিবের সাথে একটি বৈঠক করার পর আনুষ্ঠানিক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিএসইসি মনে করে, একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির পর্ষদ গঠন ও করপোরেট সুশাসন সরাসরি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের সাথে জড়িত। তাই তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে যে, কোম্পানির ৬৪তম পর্ষদ সভা আদৌ হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে তা যথাযথ নিয়ম মেনে করা হয়েছিল কি না। এছাড়া সভার নোটিশ সব যোগ্য পরিচালককে দেওয়া হয়েছিল কি না কিংবা কোনো বহিরাগত ব্যক্তি সভায় অংশ নিয়েছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটির ৬৩তম পর্ষদ সভা পর্যন্ত যে নেতৃত্ব ও কাঠামো ছিল, সেটিই বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

শেয়ারবাজার এর অন্যান্য সংবাদ