ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানে আজ ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানোর ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

২০২৬ মার্চ ১০ ১৯:২০:২০

ইরানে আজ ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানোর ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের দশম দিনে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিহত মার্কিন সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন।

সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে জেনারেল কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী বর্তমানে তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে অভিযান পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে—মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা, ইরানের নৌবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনা।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশেষভাবে ইরানের মাইন স্থাপনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এ ধরনের অভিযানকে ‘কঠিন ও নিরলস কাজ’ উল্লেখ করে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, চলমান সংঘাতের ফলাফল ‘আমেরিকার পক্ষেই থাকবে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানের ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলিং’ মেনে নেবে না।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর ‘২০ গুণ বেশি শক্তিতে’ পাল্টা আঘাত হানা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সংবাদ সম্মেলনে সেই বার্তার পুনরাবৃত্তি করেন।

ইরানে সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হেগসেথ বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সতর্ক থাকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত করার মতো কোনও ঘটনা ঘটলে আমরা অবশ্যই তা তদন্ত করব। তবে কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণের মাধ্যম উন্মুক্ত তথ্যসূত্র হতে পারে না।’

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের’ প্রস্তুতির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্মুখসারিতে থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম ও রসদ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেনারেল কেইন জানান, বর্তমানে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ‘তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে’ চলাচল করতে পারছে, যদিও ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়।

উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার বিষয়ে হেগসেথ বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ইরান বড় ভুল করেছে এবং এটি তাদের চরম হঠকারিতা।

তিনি মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে উল্টো ওই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। হেগসেথ আরও বলেন, ইরানের নতুন নেতার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা মেনে চলা।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন—এমন খবর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সবশেষে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ অন্তহীন হবে না। এটি এখন শুরুতে না শেষের দিকে রয়েছে—সে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত