ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

মারা গেলেন খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ

২০২৬ মার্চ ০২ ১৯:৫৮:৫৫

মারা গেলেন খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই তাঁর পরিবারে নেমে এলো আরও এক বড় বিপর্যয়। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সেই রক্তক্ষয়ী হামলার আঘাত সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন খামেনির সহধর্মিণী মানসুরেহ খোজাস্তেহ। সোমবার (২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) তাঁর মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে খামেনি পরিবারের এক দীর্ঘ ও নিভৃত অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

নথি অনুযায়ী, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যখন খামেনির বাসভবন ও দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তখন মানসুরেহ খোজাস্তেহ নিজেও গুরুতর আহত হন। ওই হামলাতেই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান তাঁর স্বামী এবং দেশের প্রভাবশালী নেতা খামেনি। মানসুরেহকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে দুই দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর আজ তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ইরানের দীর্ঘকালীন ফার্স্ট লেডি হওয়া সত্ত্বেও মানসুরেহ খোজাস্তেহ ছিলেন অত্যন্ত প্রচারবিমুখ একজন মানুষ। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে খামেনি ক্ষমতায় থাকলেও তাঁকে খুব কমই জনসমক্ষে দেখা যেত। তিনি কোনো ধরণের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়াতেন না এবং নিজেকে মূলত ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া জীবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সংগ্রামী জীবনে তিনি অন্তরালে থেকেই একনিষ্ঠ সমর্থন জুগিয়ে গেছেন।

মানসুরেহ খোজাস্তেহ ১৯৪৭ সালে ইরানের মাশহাদ শহরের এক অভিজাত ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুহাম্মদ ইসমাইল খোজাস্তেহ বাঘেরযাদেহ ছিলেন ওই অঞ্চলের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ১৯৬৪ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকে গত ৬২ বছর তিনি সুখে-দুঃখে স্বামীর পাশেই ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে খামেনি দম্পতির এমন করুণ বিদায় বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত