ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

আরব আমিরাতে ইরানের মিসাইল হামলায় বাংলাদেশি নি'হত

২০২৬ মার্চ ০১ ২০:২২:৩০

আরব আমিরাতে ইরানের মিসাইল হামলায় বাংলাদেশি নি'হত

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল রণাঙ্গন এবার কেড়ে নিল এক নিরপরাধ প্রবাসী বাংলাদেশির জীবন। সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছাই হলো মৌলভীবাজারের সন্তান সালেহ আহমদের স্বপ্ন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান প্রদেশে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শনিবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিনি প্রাণ হারান। রোববার (১ মার্চ) আমিরাত কর্তৃপক্ষ এক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও নাম-পরিচয় গোপন রেখেছিল, তবে পারিবারিক সূত্রে নিহত ব্যক্তির সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিহত সালেহ আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে আরব আমিরাতের আজমানে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত। শনিবার সন্ধ্যায় ইফতার শেষে জীবিকার তাগিদে বাইক নিয়ে জরুরি খাবার ও পানীয় সরবরাহের কাজে বের হয়েছিলেন তিনি। এ সময় আকাশ থেকে হঠাৎ একটি জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড বা মিসাইলের মতো বস্তু তীব্র বেগে মাটিতে আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ঘটনাস্থলেই সালেহ আহমদ মারাত্মকভাবে জখম হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে আমিরাতের পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স দ্রুত এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং মুমূর্ষু অবস্থায় সালেহ আহমদকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠায়। রবিবার সকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়। যদিও এখন পর্যন্ত আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে সেখানকার প্রবাসী কমিউনিটি ও সহকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন যে নিহত ব্যক্তিটি বড়লেখার সালেহ আহমদ। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ছোড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এই অকাল মৃত্যুতে গাজিটেকা গ্রামে এখন শোকের মাতম চলছে। সালেহ আহমদ ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দেশে তাঁর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী এবং চার সন্তান (তিন ছেলে ও এক মেয়ে) রয়েছে। বাবার মৃত্যুর সংবাদে সন্তানদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখন তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আকুতি জানানো হয়েছে।

সালেহ আহমদের চাচাতো ভাই মাহবুব আলম চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।’ তিনি তাঁর ভাইয়ের কফিনটি শেষবারের মতো দেখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত