ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

খামেনিকে হ'ত্যা ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’: পুতিন

২০২৬ মার্চ ০১ ১৮:২২:১০

খামেনিকে হ'ত্যা ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’: পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আকস্মিক প্রয়াণ ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘটনাকে একটি ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, এই হামলা কেবল ইরানের ওপর নয়, বরং বিশ্ব শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর বড় ধরণের আঘাত। ক্রেমলিন থেকে পাঠানো এই শোকবার্তাটি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে, খামেনির প্রয়াণের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে একটি বিশেষ শোকবার্তা পাঠিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। সেই চিঠিতে তিনি এই ঘটনাকে ‘মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সকল নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুতিন এই কঠিন সময়ে ইরানের জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘটনার নেপথ্যে থাকা শক্তিগুলোর সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে এই হামলার চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে মন্তব্য করেছেন যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’। তিনি বিশ্ববাসীকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের একটি ‘অধিকার ও কর্তব্য’। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরণের যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইরানজুড়ে নজিরবিহীন যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিজেই। রোববারের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত শনিবার ভোরে তাঁর দফতরে ‘দায়িত্ব পালনরত অবস্থায়’ নিহত হন। তবে ভাগ্যক্রমে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ভয়াবহ আক্রমণ থেকে অক্ষত রয়েছেন।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ইরানে একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামো গঠন করা হয়েছে। নতুন কোনো সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের একজন অভিজ্ঞ আইনবিদ যৌথভাবে দেশের শাসনতান্ত্রিক ও সামরিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করবেন। খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে বর্তমানে দেশটিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আন্তর্জাতিক এর অন্যান্য সংবাদ