ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ইপিজেড প্লট হারানোর ঝুঁকিতে রিং সাইন, শেয়ারহোল্ডারদের উদ্বেগ

২০২৬ মার্চ ০১ ১৭:২৬:৩৭

ইপিজেড প্লট হারানোর ঝুঁকিতে রিং সাইন, শেয়ারহোল্ডারদের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা ইপিজেডে বরাদ্দকৃত জমির বিপরীতে শতকোটি টাকার বকেয়া না মেটানোয় ইজারা বাতিলের ঝুঁকিতে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইল লিমিটেড। পাওনা পরিশোধে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও সাড়া না মেলায় ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। সন্তোষজনক জবাব না পেলে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই লিজ বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বেপজার তথ্যমতে, ঢাকা ইপিজেডের ১৫৭-১৬৩ নম্বর প্লটের বিপরীতে কোম্পানিটির মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা (২০.০৮ মিলিয়ন ডলার)। তবে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বকেয়া ছিল ১৯৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বিপরীতে আমানত জমা রয়েছে মাত্র ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা—অর্থাৎ আমানতের তুলনায় বকেয়া ৬৩ গুণেরও বেশি।

দীর্ঘদিন ধরে অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করেনি কোম্পানিটি। সর্বশেষ গত বছরের ১৭ মে মাত্র ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়, যা লিজ চুক্তির শর্ত পূরণে নগণ্য বলে উল্লেখ করেছে বেপজা।

বকেয়া ইস্যুতে বিরোধ গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত। কোম্পানির দায়ের করা রিটের পর আদালত চার মাসের মধ্যে ২৪ কোটি টাকা (২ মিলিয়ন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দেন। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একাধিক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির আইপিও তহবিলের ১২ কোটি টাকা অবমুক্তির আবেদনও নাকচ করেছে। শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে ব্যর্থ হওয়ায় অর্থ ছাড় দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রায় ২৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূলধন বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

২০১৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া রিং সাইন বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। ৫০০ কোটি ৩১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির ৫৮.৩৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। দীর্ঘদিন প্লট অব্যবহৃত রাখা ও বিপুল বকেয়া জমে ওঠায় কোম্পানিটি এখন টিকে থাকার সংকটে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত