ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরান: আকাশ, স্থল ও নৌ শক্তিতে কে এগিয়ে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ২১:৪৪:১২

যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরান: আকাশ, স্থল ও নৌ শক্তিতে কে এগিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ সময়ের উত্তেজনা ও ব্যর্থ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ঘোষণা দিয়ে তেহরানসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অত্যাধুনিক বিমান হামলা, অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রতিহত করার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করছে।

বিশ্বের সামরিক শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তুলনীয় নয়। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ২০২৬ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে অবস্থান করছে, আর ইরান ১৬তম স্থানে থেকেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

বিমান শক্তি:যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী তাদের প্রধান শক্তি। ১৩ হাজারেরও বেশি বিমান, যার মধ্যে ১,৭৯১টি যুদ্ধবিমান ও ১,০০০টিরও বেশি অ্যাটাক হেলিকপ্টার রয়েছে। এফ-৩৫ ও বি-২১ স্টিলথ প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশে অনন্য করে তুলেছে।

ইরানের বিমানবাহিনী তুলনামূলকভাবে ছোট, মাত্র ৫৫১টি যুদ্ধবিমান। তবে ইরান ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে তাদের ঘাটতি পূরণ করেছে। ‘শাহেদ’ সিরিজের ড্রোন শত্রুপক্ষের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজে নষ্ট করতে সক্ষম।

স্থল শক্তি ও আর্টিলারি:ইরানের স্থল বাহিনী শক্তিশালী, প্রায় ১,৯৯৬টি ট্যাংক এবং ৬৫,০০০-এরও বেশি সাঁজোয়া যান নিয়ে। বিশেষ করে তাদের ১,৫৫০টি রকেট লঞ্চার মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো স্থানে গোলাবর্ষণ করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থল শক্তি মূলত গুণগত মানের ওপর নির্ভরশীল। ৪,৬৫০টি আব্রামস ট্যাংক এবং ৩,৬০,০০০-এরও বেশি সাঁজোয়া যান দ্রুত মোতায়েন করা যায়। আধুনিক লজিস্টিক ও প্রযুক্তি তাদের স্থল বাহিনীকে অত্যন্ত গতিশীল করে তুলেছে।

নৌ শক্তি:যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি বিমানবাহী রণতরী, ৮৩টি ডেস্ট্রয়ার ও ৬৬টি সাবমেরিন রয়েছে। এটি ‘ব্লু ওয়াটার নেভি’, যা সমুদ্রে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম।

ইরানের নৌ বাহিনী ছোট, ১০৯টি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সাবমেরিন এবং দ্রুতগামী ছোট বোট প্রাধান্য পায়। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে এই ছোট বোটগুলো মার্কিন বড় জাহাজের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও টেকসই যুদ্ধ:যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট ৮৩১ বিলিয়ন ডলার, ইরানের বাজেট ৯.২৩ বিলিয়ন ডলারের কম। অর্থনৈতিক সক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় উচ্চ প্রযুক্তির যুদ্ধ চালাতে পারবে, ইরান সীমিত প্রযুক্তি ও স্ব-সম্পূর্ণতায় নির্ভর করছে।

ভৌগোলিক সুবিধা ও জনবল:ইরানের পাহাড়ি ও রুক্ষ ভূ-প্রকৃতি বিদেশি বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং। প্রায় ৬ লক্ষ সক্রিয় সৈন্য ও ১০ লক্ষ আধা-সামরিক বাহিনী দেশ রক্ষায় প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে লড়তে হয়, যা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি ও অস্ত্রদ্বারায় অপ্রতিরোধ্য। ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, ড্রোন প্রযুক্তি এবং ভূ-প্রকৃতি ব্যবহার করে দীর্ঘস্থায়ী, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মুখোমুখি করতে সক্ষম। এক কথায়, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপ্রতিরোধ্য তরবারি’, ইরান ‘দুর্ভেদ্য ঢাল’।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত