ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

বিএসইসিতে সংস্কারের হাওয়া: নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ২২:১২:৩১

বিএসইসিতে সংস্কারের হাওয়া: নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের জোরালো সংকেত পাওয়া যাচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কাটিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থার সঞ্চার করা। আর্থিক খাতের কেন্দ্রীয় অভিভাবক বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের পরপরই এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। রাজধানীর মতিঝিল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়—সর্বত্রই এখন পরিবর্তনের এই সুর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার এক আমূল সংস্কারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে বিনিয়োগকারীরা মূলত ভুল নীতি ও দুর্বল তদারকির খেসারত দিয়েছেন; যেখানে অর্থপ্রবাহ বাড়ানো বা মানসম্পন্ন শেয়ার আনার চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনেক ক্ষেত্রে হয়রানিমূলক সিদ্ধান্তে বেশি মনোযোগ দিয়েছিল। এর ফলে কারসাজি চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়লেও সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে এবং বাজার ক্রমশ বিমুখ হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে বিনিয়োগকারীরা এখন বিএসইসির প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি দক্ষ কাঠামোর পুনর্গঠন চাইছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগে আর্থিক খাতে যে সংস্কারের ইঙ্গিত মিলেছে, তার ঢেউ এখন আছড়ে পড়ছে বিএসইসিতেও। সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলে এখন স্পষ্ট আলোচনা চলছে যে, দেশের মুদ্রানীতির সাথে শেয়ারবাজার-এর একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় জরুরি, যা করার জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও পেশাদার নেতৃত্ব। গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বিএসইসির শীর্ষ পদগুলোতে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে যারা বাজারের বর্তমান সংকট সমাধানে সরাসরি ভূমিকা রাখবেন।

নতুন সরকার তার কার্যকালের শুরু থেকেই শেয়ারবাজার-কে শক্তিশালী করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক খসড়া এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ বা নিছক পদবীধারীর চেয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যারা বাজারের গতিপ্রকৃতি বা ‘নাড়ি-নক্ষত্র’ চেনেন, তাদেরই কমিশনের মূল দায়িত্বে আনার বিষয়ে সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে।

ইতোমধ্যেই বিএসইসির চেয়ারম্যান পদের জন্য সম্ভাব্য অন্তত ছয়জন প্রার্থীর একটি তালিকা সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় যেমন স্থান পেয়েছেন প্রথিতযশা অ্যাকাডেমিক ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ, তেমনি আছেন কমিশনের সাবেক চৌকস কর্মকর্তা ও বাজারের সরাসরি অংশীজনরা। সরকার এই নামের তালিকাটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যাতে একজন গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ অধিনায়ক খুঁজে পাওয়া যায়।

চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মাশরুর রিয়াজ। পাশাপাশি শিক্ষা খাত থেকে গুরুত্ব পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য মো. আল-আমিন এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। দুই দশকে বেশি সময় ধরে আর্থিক খাতে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই শিক্ষাবিদদের নিয়ে বাজারে ইতিবাচক ধারণা রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের মধ্য থেকেও কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে, যাদের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বর্তমান চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন অন্যতম। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের এমডি ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী। যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এই কমিশন গঠিত হলে বাজারে ক্যাশ প্রবাহ বাড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন সবার দৃষ্টি এই পরিবর্তনের সুফল কত দ্রুত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত