ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

হামলার আশঙ্কায় বাহরাইন থেকে জাহাজ সরালো যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৯:৪২:০০

হামলার আশঙ্কায় বাহরাইন থেকে জাহাজ সরালো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হওয়ায় বাহরাইনে অবস্থানরত নিজেদের পঞ্চম নৌবহরের জাহাজগুলো সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে তেহরান ওই ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে—এমন গোয়েন্দা মূল্যায়নের পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পূর্বমুহূর্তে একইভাবে জাহাজ সরিয়েছিল ওয়াশিংটন।

নতুন স্যাটেলাইট চিত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্চলিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সম্ভাব্য হামলার আগে মার্কিন বাহিনী কৌশলগত পুনর্বিন্যাসে নেমেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে পিছু হটার সুযোগ সীমিত। তাদের মতে, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে শেষ মুহূর্তে ইসরায়েলের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অবহিত করা হতে পারে।

উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং তার জামাতা জের্ড কুশনার।

জেনেভায় অবস্থিত ওমান দূতাবাসে এ আলোচনা চলছে পরোক্ষ পদ্ধতিতে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান ও পৃথক বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

তবে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় সেনা সমাবেশ দেখা যাচ্ছে। বিমানবাহী রণতরী, ৩০০-র বেশি সামরিক বিমান এবং ইসরায়েলে মোতায়েন ১২টি এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান এই প্রস্তুতির অংশ। এসব যুদ্ধবিমান প্রয়োজনে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত এক অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইরানে হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিরত থাকবে—এ সম্ভাবনা ক্রমেই কমছে। এখন প্রশ্ন কেবল কবে, কী মাত্রায় এবং কতটা তীব্রতায় সেই হামলা হবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত