ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বিএসইসিতে পরিবর্তনের হাওয়া: নতুন চেয়ারম্যান খুঁজছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন-পরবর্তী প্রাথমিক উচ্ছ্বাস কাটিয়ে দেশের শেয়ারবাজার এখন কিছুটা থমথমে। এর মূল কারণ হিসেবে বাজার সংশ্লিষ্টরা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনাকে দেখছেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে নতুন সরকার ইতিমধ্যে নতুন চেয়ারম্যানের সন্ধান শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিশনের কার্যক্রমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ব্যর্থ হওয়ায় বড় ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ২০০ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল। কিন্তু বর্তমান কমিশনের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পরবর্তী সেশনগুলোতেই বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দেয়। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কেবল সাময়িক আবেগ দিয়ে বাজার চলবে না; টেকসই স্থিতিশীলতার জন্য কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বিএসইসি-র স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখায় বাজার গতিহীন হয়ে পড়েছে। তাঁর মেয়াদে কোনো নতুন আইপিও বাজারে আসেনি এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ‘অবাস্তব’ জরিমানা আরোপ করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। অনেক মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী মনে করেন, কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক নয়, বরং বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ ও বাজারমুখী কাউকে নেতৃত্বে আনা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বিগত ১৫ বছরে এম খায়রুল হোসেন এবং শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে সুশাসনের অভাব বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত শিবলী রুবাইয়াত ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন এবং বিএসইসি থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্বল কোম্পানিকে প্রিমিয়ামে আইপিও দেওয়ার অভিযোগ ছিল। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার একজন দক্ষ এবং নীতিনির্ধারণী জ্ঞানসম্পন্ন চেয়ারম্যান নিয়োগের দাবি উঠেছে, যিনি নতুন অর্থবছর-এর আগেই বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবেন।
নতুন সরকার শক্তিশালী ও লাভজনক কোম্পানিগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে, যাতে বাজারে তারল্য বা ক্যাশ ফ্লো বৃদ্ধি পায়। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিএসইসি-র নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।
মামুন/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২২ জুলাই)
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)