ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
নির্বাচন-পরবর্তী ধাক্কা: চার দিনে ১৩৫ পয়েন্ট হারাল ডিএসই
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) টানা চতুর্থ দিনের মতো পতনের বৃত্তে আটকে রয়েছে। রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এবং বড় বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাজারে বিক্রির চাপ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ বুধবার ও বৃহস্পতিবার ব্যাপক বিক্রির চাপে সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিগত চার কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সর্বমোট ১৩৫ পয়েন্ট হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনশেষে প্রধান সূচকটি ৫৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সময়ে ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ মোট ১২ পয়েন্ট এবং শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১০ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। সূচকের এ ধারাবাহিক পতন বাজারে আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেনদেনের চিত্রেও দেখা গেছে বড় ধরনের সংকোচন। বাজারে অংশগ্রহণের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ডিএসইর দৈনিক লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৪০.১৭ শতাংশ কমে ৫৬০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৯৩৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে প্রায় ৩৭৬ কোটি টাকা লেনদেন কমেছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সপ্তাহের শেষদিন লেনদেন হওয়া ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪৬টির দর বেড়েছে। বিপরীতে ৩১৩টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে এবং ৩৩টি অপরিবর্তিত ছিল। এ পরিসংখ্যান বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতার চিত্রই তুলে ধরে, যেখানে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার চাপ স্পষ্টভাবে বেশি ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে নতুন সিকিউরিটিজ কমিশন গঠন, সম্ভাব্য নীতিগত সংস্কার এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক বড় বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন করে পজিশন নিতে দ্বিধাবোধ করছেন। ফলে বাজারে তারল্য সংকুচিত হচ্ছে এবং সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সেক্টরভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবকটি বড় খাতের শেয়ার দর লাল জোনে থেকে লেনদেন শেষ করেছে। এর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিআই) খাতে সর্বোচ্চ ১.৭৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে। এছাড়া প্রকৌশল খাতে ১.৪৬ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১.২৩ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে ১.২০ শতাংশ পতন হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতায় ফিরতে পারে। বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ, প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং আস্থা পুনরুদ্ধারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে আগামী মাসগুলোতে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- টানা ৫ দিনের বড় ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ এপ্রিল)
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিল
- শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সম্ভাব্য সময় জানাল মন্ত্রণালয়
- বৈশাখী ভাতা নিয়ে সর্বশেষ যা জানাল মাউশি
- শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ট্রাস্ট
- ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে চমক দিলেন পরীমনি
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম
- সংসদ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ
- জেলাভিত্তিক পুলিশ নিয়োগ, দেখে নিন কোথায় কত পদ
- ফেল করা শিক্ষার্থীরা কতবার পরীক্ষা দিতে পারবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ
- ২০২৬ এইচএসসি পরীক্ষার আসনবিন্যাস প্রকাশ
- সংসদে অনুমোদন পেল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি