ঢাকা, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২
আস্থার সংকটে শেয়ারবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আমূল সংস্কারের ডাক
নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের ক্ষমতার সমীকরণে যে পটপরিবর্তন এসেছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শেয়ারবাজার-এ। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর শীর্ষ নেতৃত্বে রদবদল হবে কি না—তা এখন বিনিয়োগকারী মহলে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে নাকি পরিবর্তন আসবে, সে প্রশ্নে ব্রোকারেজ হাউস থেকে শুরু করে মার্চেন্ট ব্যাংক ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বোর্ডরুম পর্যন্ত চলছে বিশদ আলোচনা। তার বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ না থাকলেও বাজারের টানা স্থবিরতা এবং গত দেড় বছরে একটিও নতুন আইপিও না আসা নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, আস্থাহীনতা এখন বাজারের সবচেয়ে বড় সংকট। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ সূচক ও লেনদেন একাধিকবার তলানিতে নেমেছে। যে বাজারে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন ছিল একটি স্বাভাবিক ঘটনা, সেখানে এখন অনেক দিনই লেনদেন সীমিত পরিসরে ঘোরাফেরা করছে। দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়া, দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির আধিক্য, কারসাজির অভিযোগ এবং নীতিনির্ধারণে অস্থিরতা—এসব মিলিয়ে বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সাময়িক পদক্ষেপে নয়; বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আমূল সংস্কার ছাড়া বাজার ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব।
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী শেয়ারবাজার-এর আস্থা ফেরাতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পেশাদার ও স্বার্থের সংঘাতমুক্ত নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জোসেফ পি কেনেডি সিনিয়র এবং ভারতের জি এন বাজপাই-এর মতো ব্যক্তিত্বরা বাজার সংস্কারে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে ব্যবহারিক বাজার পরিচালনায় বেশি দক্ষ।
বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ মনে করেন, শেয়ারবাজার-এর জটিল বাস্তবতা বোঝার জন্য শুধু একাডেমিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ ঘিরে নানা বিতর্ক ও সুশাসনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা বাজারের নীতির ধারাবাহিকতা নষ্ট করেছে। এখন অনেকেই করপোরেট খাতে অভিজ্ঞ এবং শেয়ারবাজার-এর ইকোসিস্টেম সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের কমিশনের নেতৃত্বে দেখতে চান। তাদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বাজারবান্ধব নীতিমালা এবং কঠোর নজরদারি ছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি নীতিগত সংস্কার অপরিহার্য। একটি শক্তিশালী আইপিও পাইপলাইন গড়ে তোলা, বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিত করার মতো বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি না হলে টেকসই প্রবৃদ্ধি আসবে না। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, সরকার যদি এই ক্রান্তিকালীন সময়টিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আমূল পরিবর্তন আনে, তবেই বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাজারকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: কখন ও কীভাবে সরাসরি দেখবেন আজকের খেলা?
- ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি Live-এ খেলা দেখুন এখানে
- ২০২৬ সালে কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা?
- ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষ, এক নজরে দেখে নিন ফলাফল
- সুন্নাহ মেনে সেহরি খাওয়ার সময় ও বিশেষ কিছু নিয়ম
- নতুন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় ঢাবির সাবেক অধ্যাপকসহ যারা
- রমজান মাসের ছুটি নিয়ে যা জানাল মাউশি
- পবিত্র রমজানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
- স্পিকার নেই, নতুন সরকারের শপথ পড়াবেন কে? জানুন নিয়ম
- দুর্ঘটনার কবলে মেসুত ওজিল ও বিলাল এরদোয়ানের গাড়িবহর
- কে কে হচ্ছেন মন্ত্রী? শেষ মুহূর্তের তালিকায় যাদের নাম
- রমজানের প্রথম দিনেই ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- কাল থেকে বন্ধ সব স্কুল, রমজানে ছুটির নতুন প্রজ্ঞাপন
- ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ চলছে: এখানে সরাসরি দেখুন Live
- পবিত্র রমজানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসের নতুন সময়সূচি প্রকাশ