ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মোহরম সিকিউরিটিজের ৪ পরিচালকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাহকের আমানত বা কাস্টমার ফান্ডের অর্থ তছরুপের অভিযোগে কঠোর অবস্থানে গেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ট্রেকহোল্ডার মোহরম সিকিউরিটিজ লিমিটেডের (ট্রেক-১০৮) ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সকল পরিচালকের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি।
বিএসইসির চিঠি অনুযায়ী, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মোহরম সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুছা এবং দুই পরিচালক আফছারুজ্জামান ও হালিমা পারভীন। গত ২০২৩ সালে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্লায়েন্টদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে বিএসইসি একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিতে সিএসইর প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ তদন্তে গ্রাহকের অর্থ সরানোর প্রাথমিক সত্যতা মেলায় এখন তাদের দেশত্যাগে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সমন্বিত গ্রাহক হিসাব বা কনসলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্টের (সিসিএ) অর্থ সুরক্ষা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনাবেচার জন্য যে অর্থ জমা দেন, তা সিসিএ-তে সংরক্ষিত থাকার কথা। কিন্তু মোহরম সিকিউরিটিজসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ওই হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মোহরম সিকিউরিটিজ ছাড়াও সিএসইর আরও তিনটি হাউজ— সিলেট মেট্রো সিটি, ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটিজ এবং ফার্স্ট লিড সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
তছরুপের এই ক্ষত কেবল সিএসইতে সীমাবদ্ধ নয়; ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত তিনটি বড় হাউজ— বানকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ এবং তামহা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ বিনিয়োগকারীর ১৭৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এখনও বিচারাধীন। ডিএসইর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, অনেক ব্রোকারেজ হাউজের মালিকেরা গ্রাহকের টাকা সরিয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করছেন, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীর অর্থ নিরাপদ না থাকলে শেয়ারবাজার-এ দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফেরানো অসম্ভব। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই কঠোর পদক্ষেপ বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং বিনিয়োগকারীদের ভঙ্গুর আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিএসইসি মনে করে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু আর্থিক নিরাপত্তাকেই ঝুঁকিতে ফেলে না, বরং বাজারে বড় ধরনের তারল্য সংকটও তৈরি করে। অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে অন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও তা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা ২৮ অক্টোবর থেকে, ফল প্রকাশ ১৫ নভেম্বর
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ অক্টোবর)
- ‘অনেক শিশুকে চুমু দিয়েছি, আমাকে মারার সাহস আছে?’