ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন পিছিয়ে ৯ এপ্রিল নির্ধারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি না হওয়ায় আদালত আবারও সময় দিয়েছেন। আলোচিত এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আগামী ৯ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদন দাখিলের দিন থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার আদালতে কোনো রিপোর্ট জমা দিতে পারেননি। ফলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন করে ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।
এই মামলায় সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগ এনে তার স্ত্রী সামীরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক লিও (লুসি), চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। প্রথমে তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন জানান। আদালত তখন অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। একই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করলেও সালমানের বাবা এতে আপত্তি জানিয়ে রিভিশন মামলা করেন। বহু বছর পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় নতুন করে মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মৃত্যুর দিন সালমানের মা নিলুফার জামান চৌধুরী, বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই বাসায় গেলে প্রথমে জানানো হয় তিনি ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর ফোন পেয়ে তারা দ্রুত ফিরে এসে শয়নকক্ষে তাকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে কয়েকজন নারী তার শরীরে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গলায় দড়ির দাগসহ শরীরে নীলচে চিহ্ন দেখতে পান। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি আগেই মারা গেছেন।
সালমানের বাবার মৃত্যুর পর থেকে তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদীপক্ষের হয়ে মামলা পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী তারা দায়মুক্তি পেতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ববি হাজ্জাজের
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
- ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা