ঢাকা, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২

সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন পিছিয়ে ৯ এপ্রিল নির্ধারণ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৩:৪০:২৪

সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন পিছিয়ে ৯ এপ্রিল নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি না হওয়ায় আদালত আবারও সময় দিয়েছেন। আলোচিত এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আগামী ৯ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদন দাখিলের দিন থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার আদালতে কোনো রিপোর্ট জমা দিতে পারেননি। ফলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন করে ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

এই মামলায় সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগ এনে তার স্ত্রী সামীরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক লিও (লুসি), চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। প্রথমে তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন জানান। আদালত তখন অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। একই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করলেও সালমানের বাবা এতে আপত্তি জানিয়ে রিভিশন মামলা করেন। বহু বছর পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় নতুন করে মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়।

অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মৃত্যুর দিন সালমানের মা নিলুফার জামান চৌধুরী, বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই বাসায় গেলে প্রথমে জানানো হয় তিনি ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর ফোন পেয়ে তারা দ্রুত ফিরে এসে শয়নকক্ষে তাকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে কয়েকজন নারী তার শরীরে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গলায় দড়ির দাগসহ শরীরে নীলচে চিহ্ন দেখতে পান। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি আগেই মারা গেছেন।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর থেকে তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদীপক্ষের হয়ে মামলা পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী তারা দায়মুক্তি পেতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত