ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঈদযাত্রায় ১৩ দিনে সড়কে ঝরল ২৮১ প্রাণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের ব্যাপক যাতায়াতের মধ্যেই সড়কে প্রাণহানির উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের আগে ও পরে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে সারা দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছেন। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২১ দশমিক ৬১ জন। গত বছরের ঈদুল আজহার সময় ১২ দিনে ৩১২ জন নিহত হলেও এবার প্রাণহানি কমে ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ হয়েছে।
তবে প্রাণহানি কমলেও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এখনও সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ। এছাড়া ৩৭ জন পথচারী এবং ৩৩ জন চালক ও সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি একই সময়ে ১৩টি নৌ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ২২টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৯ জন।
যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, থ্রি-হুইলারের ৪৮ জন যাত্রী, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের ৩২ জন আরোহী, বাসের ২১ জন যাত্রী এবং প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সের ১১ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে আঞ্চলিক সড়ক সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে। মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে এবং ৩৩ দশমিক ২১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি, যা মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। জেলা হিসেবে ফরিদপুরে সর্বোচ্চ ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে গেছেন এবং সারা দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। ট্রেন ব্যতীত সড়ক ও নৌপথে তুলনামূলক কম ভোগান্তি থাকলেও বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানো, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
সংগঠনটি সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ ও বিআরটিসির সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ, দক্ষ চালক তৈরি, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং রেল ও নৌপরিবহন উন্নয়নের সুপারিশ করেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। তার মতে, কার্যকর নীতিমালা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ববি হাজ্জাজের
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা