ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শত্রু নয়, সর্বত্র মিত্র তৈরি করেছিলেন জিয়াউর রহমান: তথ্যমন্ত্রী

২০২৬ জুন ০৪ ১৬:০৬:২৩

শত্রু নয়, সর্বত্র মিত্র তৈরি করেছিলেন জিয়াউর রহমান: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন এক কূটনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে বিরোধ নয়, বরং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও বহুপক্ষীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক সেই নীতিকেই পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে অনুসরণ করছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে পিআইবি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পরিচালনায় কিছু অনিবার্য বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের আমদানির প্রধান উৎস চীন ও ভারত, তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ, রেমিট্যান্সের বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কাতার ও রাশিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীলতা রয়েছে। এ বাস্তবতায় এমন একটি স্বাধীন নীতি প্রয়োজন, যা এসব ভিন্নমুখী উপাদানকে একসঙ্গে সমন্বয় করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের আগের একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও কূটনৈতিক স্থবিরতা থেকে দেশকে বের করে এনে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনীতি, পশ্চিমমুখী অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এবং মুসলিম বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন। পাশাপাশি বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলোকে আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেন।

স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি টিকিয়ে রাখতে জাতীয় স্বকীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। বাঙালি পরিচয়ের স্বীকৃতির জন্য কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের কাছে কিংবা মুসলমান পরিচয়ের জন্য পিন্ডি বা করাচির কোনো ধর্মীয় নেতার কাছে যেতে হয় না। এই আত্মপরিচয়ের বোধ শহীদ জিয়াউর রহমান জাতির মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি এক সংবর্ধনায় লিখিতভাবে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শহীদ জিয়া এমন মর্যাদা অর্জন করেছিলেন যে ভারতের রাষ্ট্রপতিকেও তাঁকে এ স্বীকৃতি দিতে হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও তাদের ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীরা তা এখনো স্বীকার করতে চান না। কারণ তারা নিজেদের ভারতের পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেই উপস্থাপন করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

তিনি আরও বলেন, দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের ব্যবহার এবং জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে যে নীতিগত দৃঢ়তা প্রয়োজন, তার অনুপ্রেরণা সর্বশেষ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান থেকেও পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ ও ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলেন, একটি দেশের নেতৃত্বের মূল্যায়ন কেবল অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের ভিত্তিতে হয় না; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান কতটা শক্তিশালী করা গেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কাল বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য একটি স্বর্ণযুগ ছিল।

আলোচনায় আবু রুশদ বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহ করেছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জাতিসত্তাকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নেও তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, ডেইলি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএসের সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিমসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত