ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২
খলিলুর রহমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগে অস্বস্তিতে বিএনপি নেতারাও
নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে সরাসরি তারেক রহমানের রাজনৈতিক সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই অভিষেক রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময় ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের ‘রেফারি’র ভূমিকা পালনকারী প্রশাসনের একজন সদস্যের এভাবে সরাসরি বিজয়ী দলের নীতি-নির্ধারণী পদে চলে আসাকে অনেকেই ‘স্বার্থের সংঘাত’ হিসেবে দেখছেন।
খোদ বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতাই এই নিয়োগে বিব্রত। দলটির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন যে, খলিলুর রহমান তাঁদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন এমনটি তাঁদের কল্পনাতেও ছিল না। গত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী শাসনামলে রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নানা বিষয়ে খলিলুর রহমানের কড়া সমালোচনা করেছেন খোদ বিএনপি নেতারাই। এমনকি ২০২৫ সালের মে মাসে বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করেছিলেন। অথচ আজ সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি মুছে দিয়ে তিনি এখন সরকারের অন্যতম প্রধান মুখ।
বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ড. খলিলুর রহমান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে সরাসরি মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তো জোর করে যাইনি। একেকজনের একেকজন সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা থাকতে পারে, সেটা পরিবর্তনও হয়।’ অন্যদিকে নির্বাচনের শুদ্ধতা ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘অনেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলছে। তার মানে গণনা ঠিক হয়নি। তাই তো। এটা বলছে তো! গুণে নেন আরেকবার। গুনতে তো মুশকিল নাই।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খলিলুর রহমানের নাগরিকত্ব ও বিদেশে থাকা বিপুল সম্পদ নিয়ে বিএনপির ভেতরেই আগে নানা প্রশ্ন ছিল। কেউ কেউ অভিযোগ করেছিলেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যদিও ড. রহমান তা অস্বীকার করে আসছেন। তবে বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর সাথে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য তাঁর পেশাদার কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে ড. ইউনূসের সেই ঐতিহাসিক বৈঠকের সময়ই খলিলুর রহমানের সাথে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা ও যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছিল।
সাবেক কূটনীতিকদের মতে, কেবল পেশাদারিত্ব নয় বরং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হতে পারে খলিলুর রহমানের এই গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার মূল কারণ। তবে এই নিয়োগ নতুন সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কতটা স্বস্তিদায়ক হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ১২ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে কে?
- ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: কখন ও কীভাবে সরাসরি দেখবেন আজকের খেলা?
- ঢাকা-১৭ আসনে ১৮ কেন্দ্রের ফল: এগিয়ে তারেক রহমান
- ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি Live-এ খেলা দেখুন এখানে
- ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ৩ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে কে?
- কুমিল্লা-৪ আসনে ৪৬ কেন্দ্রের ফল: তিনগুণেরও বেশি ভোটে এগিয়ে হাসনাত
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ৩৩ কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে রুমিন ফারহানা
- পঞ্চগড়-১ আসনে ৮ কেন্দ্রের ফল: সারজিস আলম এগিয়ে
- ঢাকা-১৫ আসনে জয়ী জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
- ঢাকা-৯ আসনে দুই কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে কে?
- ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষ, এক নজরে দেখে নিন ফলাফল
- ২০২৬ সালে কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা?
- ভোটের ফল পাওয়া যাবে কখন থেকে?
- ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৮ কেন্দ্রের ফল: এগিয়ে মির্জা ফখরুল
- নতুন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় ঢাবির সাবেক অধ্যাপকসহ যারা