ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

শিক্ষা হবে মানবসম্পদ তৈরির মূল কারখানা: ববি হাজ্জাজ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৪:২৯:৪৭

শিক্ষা হবে মানবসম্পদ তৈরির মূল কারখানা: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা খাতকে আর নিছক ‘ব্যয়ের খাত’ হিসেবে না দেখে একে রাষ্ট্রের ‘প্রথম বিনিয়োগ’ এবং ‘জাতি-গঠনের প্রধান প্রকল্প’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে নতুন সরকার। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয়কে এখন ‘মানবসম্পদ তৈরির মূল কারখানায়’ রূপান্তর করা হবে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার অঙ্গীকার করে বলেন, “আমাদের সরকারের-বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া- এটা আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার।” তিনি জানান, বিগত বছরগুলোতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র দেড়-দুই শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অনেক নিচে। তাই লক্ষ্য অর্জনে বাজেটের অন্তত ১৫-২০ শতাংশ এই খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

উন্নয়ন বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, “উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবায়ন শেষ ত্রৈমাসিকের হুড়োহুড়ি বন্ধ করতেই হবে। শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না খরচের গুণগত মান বদলাতে হবে।” তিনি স্বীকার করেন যে, বছরের শেষে তাড়াহুড়ো করে বরাদ্দ শেষ করার ফলে প্রশিক্ষণ ও নির্মাণকাজের মান ক্ষুণ্ন হয়। এই সংস্কৃতি বদলে এখন থেকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, লাইব্রেরি, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং স্কুলের স্যানিটেশন ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বছরজুড়েই অগ্রাধিকার পাবে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পদ্ধতিতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের ইশতেহারে আছে ফ্রি ওয়াই-ফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব। ফলে আমরা এটাকে গ্যাজেট প্রজেক্ট বানাবো না। আমরা এটাকে বানাবো শিক্ষণ-শেখার অপারেটিং সিস্টেম।” এর মাধ্যমে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখছে সরকার।

শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারের জন্য যোগ্য করে তুলতে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বাংলা এবং ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় আরেকটি ভাষা শেখাতে চাই। আন্তর্জাতিক চাহিদা ও শ্রমবাজারে সহায়ক হবে এমন একটি ভাষা আমরা নির্বাচন করবো।” এছাড়া স্কুলগুলোকে ‘ইনোভেশন স্পেস’ হিসেবে তৈরি করা এবং মাধ্যমিক পর্যায় থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণাও দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমত আমাদের লক্ষ্যে হবে শুধু সনদ নয় বরং সক্ষমতা থাকবে৷”

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত