ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২
বাংলাদেশে নির্বাচনের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বড় সুযোগ দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ ও নেপালে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করে মার্কিন প্রশাসন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আয়োজিত এক শুনানিতে মার্কিন কংগ্রেসের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা এই মন্তব্য করেন।
শুনানিতে হুইজেঙ্গা বলেন, রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ও নেপাল এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরনকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, নেপালে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর আগামী মাসে সেখানেও গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
মিশিগান থেকে নির্বাচিত এই রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য বলেন, ‘‘এই দুটি ঘটনাই দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান তরুণ জনগোষ্ঠী চীনের ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ বিকল্পের তুলনায় পশ্চিমা সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি বেশি আকৃষ্ট।’’
হুইজেঙ্গা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই অঞ্চলে প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের বসবাস এবং এটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করে বলেন, ট্রাম্প সফলভাবে এমন কিছু বাণিজ্য চুক্তি করেছেন যা মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থকে ত্বরান্বিত করবে।
চীনের ‘ঋণ নীতি’র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেইজিং ছোট দেশগুলোকে ‘‘শোষণমূলক ঋণের’’ ফাঁদে ফেলে নিজের নিরাপত্তা স্বার্থ হাসিল করতে চায়। এই প্রভাব মোকাবিলায় ভারত মহাসাগরকে মুক্ত ও উন্মুক্ত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তিনি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি ‘দিয়েগো গার্সিয়া’র গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে হুইজেঙ্গা বলেন, গত সপ্তাহে ভারতের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে শুল্কহার ১৮ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশের সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে এই দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হুইজেঙ্গার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আগামী কয়েক দশকে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারণে বাংলাদেশ ও নেপালের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পাকিস্তান বনাম যুক্তরাষ্ট্র: কখন, কোথায় সরাসরি Live দেখবেন জানুন
- বিশ্বরেকর্ড জুটিতে আমিরাতকে ১০ উইকেটে উড়াল নিউজিল্যান্ড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বে লিজিং
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- ৩৬০ মিটার, মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতি: নিরাপত্তার নামে কতটা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য?
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- ডিইউপিএস-এর ২৩তম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আবীর, সম্পাদক হাসিব
- ৪ দিন ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ ঘোষণা
- এক নজরে দেখে নিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সময়সূচি
- সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল: ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল জানুন
- ঢাকা-১৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জরিপে এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
- বিএনপি দুই নেতার শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের হুলস্থুল
- নির্বাচনে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করল সরকার
- ভোটের দিন খোলা ও বন্ধ থাকবে যেসব প্রতিষ্ঠান