ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২
দেশের ২৯৯ আসনে ভোট শেষে চলছে গণনার প্রস্তুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেড় দশক পর দেশের মানুষ ভোট উৎসবে মেতে উঠেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল প্রার্থীর ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষ হয়েছে। এবার ফলের অপেক্ষায় আছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দুই নির্বাচনের ফল একই সঙ্গে প্রকাশ হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে নাগরিকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, কেউ টেলিভিশনের পর্দায় ফল দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন, কেউবা অধীর আগ্রহে ফলাফল জানার জন্য অপেক্ষা করছেন।
একই সঙ্গে দুই ভোটের কারণে ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়ে দিয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে ভোটকেন্দ্রগুলোতে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কয়েকটি আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা। তাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করার দাবি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও জালভোট, ব্যালট বই ছিনতাই এবং কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করার অভিযোগে কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়াবেন, তারা নির্ধারিত সময়ের পরও ভোট দিতে পারবেন; তবে নতুন কাউকে লাইনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। রাজধানীর এক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নিশ্চিত করেছেন, লাইনে থাকা সকল ভোটারকে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে।
রাজধানীর গুলশান, বনানী ও ধানমণ্ডি এলাকায় নারীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো সত্ত্বেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। সকাল ১১টার মধ্যেই অনেক কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বনানীর ৫১ নম্বর কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৫১০টি ভোটের মধ্যে ৭৯৫টি ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটের ২২ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ২৯৯ সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত থাকলেও বাকি আসনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। মোট ২ হাজার ৩৪ প্রার্থীর মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন, ইসলামী আন্দোলন ২৫৮ জন, জামায়াত ২২৯ জন এবং জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন প্রার্থী দিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন।
নির্বাচন নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্বে ছিলেন এবং ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত ছিলেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পাকিস্তান বনাম যুক্তরাষ্ট্র: কখন, কোথায় সরাসরি Live দেখবেন জানুন
- বিশ্বরেকর্ড জুটিতে আমিরাতকে ১০ উইকেটে উড়াল নিউজিল্যান্ড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বে লিজিং
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- ৩৬০ মিটার, মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতি: নিরাপত্তার নামে কতটা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য?
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- ডিইউপিএস-এর ২৩তম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আবীর, সম্পাদক হাসিব
- ৪ দিন ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ ঘোষণা
- এক নজরে দেখে নিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সময়সূচি
- সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল: ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল জানুন
- ঢাকা-১৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জরিপে এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
- বিএনপি দুই নেতার শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের হুলস্থুল
- নির্বাচনে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করল সরকার
- ভোটের দিন খোলা ও বন্ধ থাকবে যেসব প্রতিষ্ঠান