ঢাকা, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনের পর এককভাবে সরকার গঠনে আশাবাদী তারেক রহমান

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১১:০০:৪৩

নির্বাচনের পর এককভাবে সরকার গঠনে আশাবাদী তারেক রহমান

ডুয়া ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক, গুম-খুনের বিচারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতির ব্যস্ততার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তাই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।” দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের চোখেমুখে প্রত্যাশা দেখেছেন তিনি। তবে দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মায়ের মৃত্যু তাকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে আঘাত করেছে। নির্বাচনি ব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত শোক এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই ছিল তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

তরুণদের আকৃষ্ট করতে নতুন কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের ইশতেহারে তরুণ, বয়স্ক, ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী এবং দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সবার জন্যই পরিকল্পনা ও কর্মসূচি রয়েছে। তার ভাষায়, “দেশটা গঠন করতে হবে সবাইকে নিয়ে।”

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি হলে যে কোনো দেশের সঙ্গেই দূরত্ব তৈরি হবে। “আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে” যোগ করেন তিনি।

ক্ষমতায় গেলে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। তার মতে, একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা প্রয়োজন; সবাই সরকারে গেলে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন, যা নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও উচ্চস্তরে সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও গৃহিণীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও দলটি নিষিদ্ধের প্রশ্নে তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে জনগণ। মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে ঠেকানো যাবে না, আর যাকে গ্রহণ করবে না তাকে শক্তি দিয়ে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় ৫ আগস্ট তার উদাহরণ।

দলের প্রার্থীদের ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি এক বিষয় নয়। বিগত সরকারের সময় বিএনপির বহু নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি এবং ব্যাংক ঋণ বঞ্চনার কারণে অনেকে ডিফল্ট হয়েছেন। তার মতে, এটি রাজনৈতিক বাস্তবতার ফল, দুর্নীতির প্রমাণ নয়।

গুম-খুনের বিচার নিয়ে তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে শুধু বিএনপি নয়, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং অরাজনৈতিক সাধারণ মানুষও গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। একটি সভ্য রাষ্ট্রে এসব ঘটনার বিচার না হওয়া অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের আইন অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত