ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২
রাষ্ট্র সংস্কারে ইসলামী আন্দোলনের ইশতেহার প্রকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জানিয়েছে, জনগণের প্রত্যাশা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, ইশতেহারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করার অঙ্গীকার থেকেই এই নামকরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, নির্বাচন হলো রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্ব নির্ধারণের মাধ্যম। আর ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সামনে দলের নীতি, দর্শন ও দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সে লক্ষ্যেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তাদের রূপরেখা ও কর্মসূচি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় যে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, তার মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে। এতে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ত্যাগের ভিত্তিতেই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
ইশতেহারটি তিনটি মূল অধ্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে—রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি।
লিখিত বক্তব্যে দলটির আমির বলেন, ইসলাম শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং জীবনব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। রাষ্ট্র ও শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ইসলামের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে, যার ভিত্তিতে ইতিহাসে দীর্ঘ সময় শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে ইনসাফ, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে।
তিনি বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা হবে। নির্বাহী আধিপত্য কমাতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা স্পষ্ট করা হবে। ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাইকে সমান মর্যাদার নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
নারীর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শরীয়াহ অনুযায়ী নারীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গৃহকর্মী ও অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত নারীদের শ্রমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। পথশিশু ও বস্তিবাসীদের জন্য পুনর্বাসন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নৈতিক, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। সরকারি নিয়োগ, আর্থিক খাত ও সেবাখাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং সিন্ডিকেট ও ঘুষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে চরমোনাই পীর বলেন, নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন