ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

দুই দশক পর বরিশাল যাচ্ছেন তারেক রহমান

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১০:০৭:০৫

দুই দশক পর বরিশাল যাচ্ছেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘ দুই দশক পর বড় ধরনের চমক আনতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় ২০ বছর পর বরিশালে সরাসরি জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তিনি, যা দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তার এই সফরকে ঘিরে বরিশাল বিভাগজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দলীয় সূত্র জানায়, তিনি সকাল ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে নির্ধারিত সময়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছাবেন।

এই জনসভায় দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী রূপরেখা তুলে ধরবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। দলীয় নেতাকর্মীদের আশা, তার বক্তব্যে ৩১ দফার আলোকে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা থাকবে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বরিশালসহ আশপাশের জেলাগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ভোর থেকেই বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে মানুষের ভিড় বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় নেতারা।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারেক রহমান। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—বিভিন্ন জেলায় জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি দলের ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

এসব সভায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকার ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর মতো প্রতিশ্রুতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে নারী ও তরুণদের জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও বারবার তুলে ধরছেন তিনি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তারেক রহমান ইতোমধ্যে বড় শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকাতেও একাধিক জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন। দলীয় সূত্র জানায়, সরকার গঠন করতে পারলে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। কৃষি ও জলব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

রাজধানী ঢাকার বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও বক্তব্য দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারে গেলে সমাজের পিছিয়ে পড়া এসব মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা হিসেবে ফ্ল্যাট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কেয়ারার নিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, অঞ্চলভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার কথা বলা হচ্ছে।

তবে জনসাধারণের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত হলে নেতারা যেন এসব অঙ্গীকার ভুলে না যান।

এদিকে দলীয় সূত্র জানায়, আগামী শুক্রবার বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে নারী ও তরুণদের চাহিদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। যুবকদের কর্মসংস্থান, বেকার ভাতা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়গুলো ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে থাকবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৫ সালে বিভাগীয় তৃণমূল সম্মেলনে অংশ নিতে বরিশাল সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর তার এই সফরকে ঘিরে দলীয় রাজনীতিতে নতুন করে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন