ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২
‘কিছুদিন পর বলবেন স্বাধীনতার ঘোষক গোলাম আজম’
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জামায়াতে ইসলামের আমিরের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, কিছুদিন পর হয়তো তারা বলবেন, গোলাম আজম স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন। তিনি বলেন, মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে তারা কখনোই পিছপা হন না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দলটির উদ্যোগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে রিজভী এসব মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষক সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী যখন আমাদের মা-বোনদের ওপর অত্যাচার চালায়, তখন তা তারা কখনোই নির্যাতন হিসেবে স্বীকার করেননি; বরং সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। সেই পরিস্থিতি ভুলে গিয়ে এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে তাদের বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রিজভী আরও বলেন, জামায়াতের আমির নারীদের প্রতি যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তাতে দেশের নারী সমাজের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সেই ক্ষোভ ঢাকতে স্বাধীনতার ঘোষকের ইস্যু সামনে আনা হয়েছে, তবে সত্যকে এভাবে ঢেকে রাখা সম্ভব নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সালে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে যে অবস্থান নিয়েছিল, তা পরে বদলে গেছে। তখন শেখ হাসিনাও বলেছিলেন যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেইমান। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সেই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া নিরঙ্কুশ পথে ছিলেন, অত্যাচার ও গ্রেফতার সত্ত্বেও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি।
রিজভী বলেন, সত্যের মুখোশ একদিন খুলেই যায়। নারীদের বিষয়ে জামায়াতের বক্তব্যই তাদের আসল চরিত্র উদঘাটন করছে। চট্টগ্রামে যাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, তিনি নিজে কখনো এমন দাবি করেননি। প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি মেজর হিসেবে দেশের জন্য স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে এই ধরনের বক্তব্য জনগণ গ্রহণ করবে কি? জিয়াউর রহমান নিজে কখনো এ ধরণের দাবি করেননি। তাঁর বই ও কার্যকলাপের তথ্যও এ বিষয়কে সমর্থন করে।
শবে বরাতের তাৎপর্যও তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই রাত পবিত্র ও বরকতময়। মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদত ও দোয়ায় মশগুল হন। ইসলামের প্রতিটি উৎসব ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবে বরাত বা শবে কদর ই আল্লাহর করুণা ও নেয়ামতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ইসলামের নামে রাজনীতি ও ব্যবসা করছেন। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত মুসলমানরা ইসলামকে জীবনাচরণের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন, মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নেন না।
নারীদের মর্যাদা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। ইসলামের প্রথম বাণী গ্রহণকারী ছিলেন হযরত বিবি খাদিজা (রা.)। মায়ের কাছ থেকে সন্তানরা প্রথম নামাজ ও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে নারীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, যা দেশের নারী সমাজের ক্ষোভের কারণ। স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু এই ক্ষোভ ঢাকার চেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন