ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

রায়পুরায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে গু'লিতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৪:১৯:২২

রায়পুরায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে গু'লিতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীর রায়পুরায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব আবারও রক্তপাত ডেকে আনল। দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম মুস্তাকিম মিয়া (১৪)। সে স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং সৌদি আরবপ্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫)। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার, অপর পক্ষের নেতৃত্বে এরশাদ মিয়া। অতীতেও এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন নিহত হন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

বুধবার সকালে ওই বিরোধের জের ধরে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়নার ছোড়া গুলিতে মুস্তাকিম মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সকালে আমার ছেলে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা কোনো দল বা গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত নই। অথচ আমার সন্তানকে গুলি করে হত্যা করা হলো। আমি এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হলে দেখা যায়, গুলিটি শরীরের বাম পাশ দিয়ে ঢুকে বেরিয়ে গেছে। পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আহতের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন