ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

একযোগে ৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ

২০২৬ জুলাই ২৯ ১৩:৪৬:৪২

একযোগে ৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। কয়েক মাস আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ এ দক্ষতা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, নতুন মীরপুর, রতনগঞ্জ, ঢালারচর, খাস ঢালারচর, রামনারায়ণপুর, মাসুমদিয়া কাজীপাড়া, মহিষাখোলা, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৫০টি বিদ্যালয়।

তবে শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিভাবকদের উদাসীনতা, শিক্ষার্থীদের মনোযোগের অভাব, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয় হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কতজন শিক্ষক এ নোটিশের আওতায় রয়েছেন, তা অফিসের নথিপত্র দেখে বলা সম্ভব। কোনো বিদ্যালয়ে তিনজন, কোনো বিদ্যালয়ে চারজন এবং কোথাও এর চেয়ে বেশি শিক্ষক রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি... বিস্তারিত