ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

৭৯ বছরে পা রেখে আবেগঘন বার্তা দিলেন মির্জা ফখরুল

২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১৩:১৮:১২

৭৯ বছরে পা রেখে আবেগঘন বার্তা দিলেন মির্জা ফখরুল

ডুয়া ডেস্ক: রাজনীতির দীর্ঘ পথচলার এক আবেগঘন মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নিজের জন্মদিনে দেশের মানুষকে নিয়ে স্বপ্নের কথা আবারও উচ্চারণ করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭৯ বছরে পা রেখে পরিবার, দলের নেতাকর্মী ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি জানালেন দেশ ও মানুষের জন্য তাঁর স্বপ্ন আজও অটুট।

শুভেচ্ছার জবাব দিতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের শৈশব, রাজনৈতিক জীবনের সূচনা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে নিজের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এ দেশের প্রতিটি সন্তান যেন সুখে-শান্তিতে বাঁচে এটাই তাঁর কামনা।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ২২ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে একটি ছবি শেয়ার করেন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মির্জা ফখরুল লেখেন, জন্মদিনে পাওয়া এই ভালোবাসা তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছে। প্রায় ছয় দশক আগে রাজনীতিতে পা রাখার সময় সমাজ বদলের স্বপ্নই ছিল তাঁর মূল প্রেরণা। স্বাধীনতার পর মানুষের জন্য কাজ করা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ১৯৮৮ সালে আবারও সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

তিনি স্মরণ করেন, বিএনপি সরকারের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে, তা এখনো এলাকার অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোয় দৃশ্যমান। পরিকল্পিত উদ্যোগে কৃষি, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে পরিবর্তন আসে, যা কথার উন্নয়ন নয় বাস্তবতার মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিভিত্তিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালে বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস ভূগর্ভস্থ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক পাইপলাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। এতে পানির অপচয় কমে, কৃষিজমির ব্যবহার বাড়ে এবং নতুন জমি চাষের আওতায় আসে।

সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি জানান, কৃষির পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের তরুণদের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময়ে সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ জোরদার হয়। একই সঙ্গে সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষক সমাজের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

তিনি আরও বলেন, নেতৃত্ব ও সঠিক পরিকল্পনাই এসব উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে এবং জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ সম্প্রসারণ ও কৃষক ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখেন তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল লেখেন, গত ১৭ বছর কেটেছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে। ১১ বার কারাবরণ করলেও নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। মানুষের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

পরিবারের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি স্ত্রী ও কন্যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। লেখেন, পরিবারের সমর্থনই তাঁকে এগিয়ে চলার শক্তি দিয়েছে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি আবারও বলেন, দেশ ও মানুষের জন্য তাঁর স্বপ্ন এখনো জীবিত। তরুণ প্রজন্মকে নিজের সন্তানের মতো মনে করেন তিনি এবং চান বাংলাদেশের প্রতিটি সন্তান নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন পাক।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত